• মা কালরাত্রির কথা
    Miscellaneous

    মা কালরাত্রির কথা

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    কালরাত্রি একজন হিন্দু দেবী। তিনি নবদুর্গার অন্যতম এবং দেবী দুর্গার সপ্তম শক্তি।

    কালরাত্রি ভীষণদর্শনা দেবী। তার গায়ের রং ঘন অন্ধকারের মতো কালো। তিনি এলোকেশিণী। তার গলায় বজ্রের মালা দোলে। তিনি ত্রিনয়না এবং তার চোখগুলি ব্রহ্মাণ্ডের মতো গোলাকার। তার নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে ভয়ংকর অগ্নিশিখা নির্গত হয়। কালরাত্রির বাহন গর্দভ বা গাধা। তিনি চতুর্ভূজা; তার চার হাতে বর ও অভয়মুদ্রা এবং খড়্গ ও লোহার কাঁটা রয়েছে। কালরাত্রির রূপ ভয়ংকর হলেও তিনি শুভফলের দেবী। তার অপর নাম শুভঙ্করিণী।

    হিন্দুদের বিশ্বাস করেন, কালরাত্রি দুষ্টের দমন করেন, গ্রহের বাধা দূর করেন এবং ভক্তদের আগুন, জল, জন্তুজানোয়ার, শত্রু ও রাত্রির ভয় থেকে মুক্ত করেন। এমন বিশ্বাস আছে, কালরাত্রির উপাসক তাকে স্মরণ করলেই দৈত্য, দানব, রাক্ষস, ভূত ও প্রেত পালিয়ে যায়।

    কালরাত্রি দুর্গাপূজার সপ্তম দিনে পূজিত হন। শাক্ত শাস্ত্রানুযায়ী, সেই দিন সাধকের মন সহস্রার চক্রে অবস্থান করে। তাঁর জন্য ব্রহ্মাণ্ডের সকল সিদ্ধির দ্বার অবারিত হয়ে যায়। এই চক্রে অবস্থিত সাধকের মন সম্পূর্ণভাবে মাতা কালরাত্রির স্বরূপে অবস্থান করে। তাঁর সাক্ষাৎ পেলে সাধক মহাপুণ্যের ভাগী হন। তাঁর সমস্ত পাপ ও বাধাবিঘ্ন নাশ হয় এবং তিনি অক্ষয় পুণ্যধাম প্রাপ্ত হন।

  • মা কাত্যায়নীর কথা
    Miscellaneous

    মা কাত্যায়নীর কথা

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    ঋষি কাত্যায়নের কন্যা – দেবী কাত্যায়নী

    অন্য নাম – মহাশক্তি, নবদুর্গা, পার্বতী, আদি পরাশক্তি

    আবাস   ঋষি কাত্যায়নের আশ্রম / শিবের পাদমূল

    অস্ত্র  – খড়্গ, খেটক, বজ্র, ত্রিশূল, বাণ, ধনুক, পাশ, শঙ্খ, ঘণ্টা ও পদ্ম

    সঙ্গী – শিব

    কাত্যায়নী হিন্দু দেবী দুর্গার একটি বিশেষ রূপ এবং মহাশক্তির অংশবিশেষ। তিনি নবদুর্গা নামে পরিচিত দুর্গার নয়টি বিশিষ্ট রূপের মধ্যে ষষ্ঠ। নবরাত্রি উৎসবের সময় তার পূজা প্রচলিত।

    শাক্তধর্ম মতে, তিনি মহাশক্তির একটি ভীষণা রূপ এবং ভদ্রকালী বা চণ্ডীর মতো যুদ্ধদেবী রূপে পূজিতা। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, তার গাত্রবর্ণ দুর্গার মতোই লাল। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে রচিত পতঞ্জলির মহাভাষ্য গ্রন্থে তাকে মহাশক্তির আদিরূপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কৃষ্ণ যজুর্বেদের অন্তর্গত তৈত্তিরীয় আরণ্যকে দেবী কাত্যায়নীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। স্কন্দ, বামন ও কালিকা পুরাণ অনুযায়ী, মহিষাসুর বধের নিমিত্ত দেবগণের অনুরোধে দেবী পার্বতী নিজের তেজ শক্তি তাদের দান করেন ও তাকে কায়া মূর্তি দিতে বলেন মহিষাসুর বর প্রাপ্ত ছিলো যে তাকে একমাত্র নারী মারতে পারবে যে মাতৃ গর্ভে জন্মাই নি তাই দেবী পার্বতী দেবগণের সহায়তাতে তামসি দেবী কে সৃষ্টি করেন সেই দেবী মহিষ অসুর বধ করেন। ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে এই পৌরাণিক ঘটনাটির প্রেক্ষাপটেই বাৎসরিক দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

    যোগশাস্ত্র ও তন্ত্র মতে, কাত্যায়নী আজ্ঞা চক্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবী এবং এই বিন্দুতে মনোনিবেশ করতে পারলে তার আশীর্বাদ পাওয়া যায়।

    মা কালরাত্রী দক্ষিণ পাদপদ্ম দ্বারা বিরাট মৃগাধিপতিকে (সিংহ) অলঙ্কৃত করে বাম পদের অগ্রভাগ দ্বারা মহিষাসুরকে বিদলিত করছেন; যিনি সুপ্রসন্না ও সুন্দর বদনযুক্তা; যাঁর তিনটি নেত্রই মনোহর; যিনি হার, নূপুর, কেয়ূর ও জটামুকুটাদিতে শোভিতা; যাঁর পরিধানে বিচিত্র পট্টবস্ত্র এবং কপালে অর্ধচন্দ্র; যিনি সুকোমল দশ বাহুতে খড়্গ, খেটক, বজ্র, ত্রিশূল, বাণ, ধনুক, পাশ, শঙ্খ, ঘণ্টা ও পদ্ম ধারণ করে থাকেন; যাঁর দেহপ্রভা কোটি চন্দ্রের ন্যায়।

    পৌরাণিক উপাখ্যান

    প্রাচীন কিংবদন্তি অনুযায়ী, দেবী পার্বতী কাত্যবংশীয় ঋষি কাত্যায়নের কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করে কাত্যায়নী নামে পরিচিতা হন। মতান্তরে, কালিকা পুরাণে বলা হয়েছে, ঋষি কাত্যায়ন প্রথম দেবী পার্বতী পূজা করেন; তাই তিনি কাত্যায়নী নামে অভিহিতা হন। আবার, তিনি শিবের পত্নী পার্বতীররূপ বিশেষ রূপান্তর। নবরাত্রি উৎসবে তার পূজা প্রচলিত।

    বামন পুরাণ গ্রন্থে দেবী কাত্যায়নীর উদ্ভবের কাহিনি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে: “দেবগণ চরম দুরবস্থায় বিষ্ণুর নিকট সহায়তা প্রার্থনা করলে, বিষ্ণু ও তাঁর আদেশে শিব, ব্রহ্মা ও অন্যান্য দেবগন দেবী পার্বতীর অংশ নিয়ে তাকে কায়া রূপ দেন সকলের দেহ হতে দিব্য তেজ বিনির্গত হয়ে এক জ্যোতিপর্বতের সৃষ্টি করল। এই জ্যোতিপর্বত ধারণ করল দশভূজা, কৃষ্ণকেশী, ত্রিনয়না ও সহস্র সূর্যের প্রভাযুক্তা দেবী কাত্যায়নীর রূপ। শিব তাঁকে ত্রিশূল প্রদান করলেন। বিষ্ণু দিলেন সুদর্শন চক্র, বরুণ দিলেন শঙ্খ, অগ্নি দিলেন শক্তি, বায়ু দিলেন ধনুক, সূর্য দিলেন তীরভরা তূণীর, ইন্দ্র দিলেন বজ্র, কুবের দিলেন গদা, ব্রহ্মা দিলেন অক্ষমালা ও কমণ্ডলু, কাল দিলেন খড়্গ ও ঢাল এবং বিশ্বকর্মা দিলেন কুঠার ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র।

    এইভাবে অস্ত্রসজ্জিতা হয়ে দেবী গেলেন বিন্ধ্যাচলে। দুই অসুরদ্বয় তাঁকে দেখে এবং তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে তাদের রাজা মহিষাসুরের নিকট দেবীর রূপ বর্ণনা করেন। মহিষাসুর দেবীকে লাভ করবার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সে দেবীর পাণিপ্রার্থনা করে। দেবী জানান, তাঁকে লাভ করতে হলে তাঁকে যুদ্ধে পরাস্ত করতে হবে।

    মহিষাসুর যুদ্ধ করতে এলে দেবী সিংহপৃষ্ঠে আরোহণ করে যুদ্ধ করেন। মহিষাসুর মহিষের রূপ ধরে দেবীকে আক্রমণ করলে, দেবী তাঁকে তীব্র পদাঘাত করেন। দেবীর পদাঘাতে মহিষাসুর অচৈতন্য হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে দেবী তার মস্তক ছিন্ন করেন। এইভাবে দেবী কাত্যায়নী মহিষাসুরমর্দিনী নামে অভিহিতা হন। বরাহ পুরাণ ও দেবীভাগবত পুরাণ গ্রন্থেও এই কাহিনির উল্লেখ রয়েছে।

    তন্ত্র অনুসারে, শিবের ছয় মুখের মধ্যে উত্তর মুখ থেকে দেবী কাত্যায়নীর উদ্ভব। এই মুখ নীলবর্ণ এবং ত্রিনয়ন। দক্ষিণাকালী, মহাকালী, গুহ্যকালী, শ্মশানকালী, ভদ্রকালী, একজটা, উগ্রতারা, তারিণী, ছিন্নমস্তা, নীল সরস্বতী, দুর্গা, জয়দুর্গা, নবদুর্গা, বাশুলী, ধূমাবতী, বিশালাক্ষী, গৌরী, বগলামুখী, প্রত্যাঙ্গীরা, মাতঙ্গী ও মহিষাসুরমর্দিনী দেবী এবং তাদের মন্ত্র ও পূজাপদ্ধতির উদ্ভবও হয় এই মুখ থেকেই।

  • মা স্কন্দমাতার কথা
    Miscellaneous

    মা স্কন্দমাতার কথা

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    বাসস্থান –  কৈলাস পর্বত

    বাহন – সিংহ

    স্বামী – শিব

    পুত্র – কার্তিকেয়, গনেশ

    স্কন্দমাতা হল মহাদেবীর নবদুর্গার রূপগুলিরমধ্যে পঞ্চম। তার নাম স্কন্দ থেকে এসেছে, স্কন্দ যুদ্ধ দেবতা কার্তিকেয়ের একটি বিকল্প নাম এবং মাতা , যার অর্থ মা। নবদুর্গার একজন হিসেবে স্কন্দমাতার পূজা নবরাত্রির পঞ্চম দিনে হয়।

    স্কন্দমাতা চার-বাহু, তিন-চোখযুক্ত এবং সিংহের উপর চড়ে। তার একটি হাত বরাভয় মুদ্রার অবস্থানে রয়েছে এবং অন্যটি তার পুত্র স্কন্দের শিশু রূপকে তার কোলে ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়। তার বাকী দুটি হাতে সাধারণত পদ্ম ফুল ধরে থাকতে দেখা যায়। তিনি হালকা রঙের, এবং প্রায়শই তাকে পদ্মের উপর উপবিষ্ট দেখা যায়।

    এটা বিশ্বাস করা হয় যে তিনি ভক্তদের পরিত্রাণ, শক্তি, সমৃদ্ধি এবং ধন দিয়ে পুরস্কৃত করেন। তিনি নিরক্ষরকেও জ্ঞানের সাগর দিতে পারেন যদি সে তার পূজা করে। স্কন্দমাতা যিনি সূর্যের তেজের অধিকারী, তাঁর ভক্তদের সমস্ত ইচ্ছা পূরণ করেন। যে তার প্রতি নিঃস্বার্থভাবে নিবেদিত, সে জীবনের সমস্ত কৃতিত্ব এবং ধন অর্জন করে। স্কন্দমাতার আরাধনা একজন ভক্তের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে।

    তার পূজা করার সময়, ভক্তের তার ইন্দ্রিয় এবং মনের উপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। তার উচিত নিজেকে জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্ত করে একমুখী ভক্তির সাথে তার পূজা করা। যখন ভক্ত তার পূজা করে, তখন তার কোলে থাকা পুত্র ভগবান স্কন্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূজা পেয়ে যান। এইভাবে, ভক্ত ভগবান স্কন্দের কৃপা সহ স্কন্দমাতার কৃপা একসঙ্গে পেয়ে যান।

    যদি একজন ভক্ত তার স্বার্থহীনতার উপাসনা করেন, মা তাদের শক্তি এবং সমৃদ্ধি দিয়ে আশীর্বাদ করেন। স্কন্দমাতার উপাসনাকারী ভক্তরা ঐশ্বরিক মহিমায় জ্বলজ্বল করেন। তার উপাসনা পরিণামে পরিত্রাণের সহায়ক। তিনি “আগুনের দেবী” নামে পরিচিত।

  • মা কুষ্মাণ্ডা
    Stories

    মা কুষ্মাণ্ডা

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    মা কুষ্মাণ্ডা পার্বতীর অবতার

    গ্রহ সূর্য

    অস্ত্র  পদ্ম, চক্র, কমণ্ডলু, তীর, ধনুক, গদা, অক্ষমালা, সুধা ও রুধিরপূর্ণ ঘট

    বাহন সিংহ

    সঙ্গী  শিব

    নবদুর্গার চতুর্থ রূপ কুষ্মাণ্ডা। নবরাত্রি উৎসবের চতুর্থ দিনে তার পূজা করা হয়।

    দেবীর এইরকম অদ্ভুত নাম কেন? ‘কু’ শব্দের অর্থ কুৎসিত এবং ‘উষ্মা’ শব্দের অর্থ ‘তাপ’; ‘কুষ্মা’ শব্দের অর্থ তাই ত্রিতাপ বা দুঃখ–দেবী জগতের দুঃখ গ্রাস করে নিজের উদরে ধারণ করেন, তাই তার নাম ‘কুষ্মাণ্ডা’

    স্বামী অচ্যুতানন্দের ভাষায়, “যেমন মহাদেব সমুদ্রমন্থনের সময় সমস্ত হলাহল পান করে নীলকণ্ঠ হয়েছেন, তেমনি জগজ্জননী দুর্গা আদ্যাশক্তি জগতের সর্বপ্রকার জ্বালা-যন্ত্রণার হাত থেকে সন্তানদের সর্বদা রক্ষা করতে করুণায় দ্রবীভূত হয়ে স্বেচ্ছায় সব তাপ নিজের শরীরে গ্রহণ করেন। দূরিতবারিণী–‘ত্রিতাপহারিণী’ মায়ের নাম তাই কুষ্মাণ্ডা।

    দেবী কুষ্মাণ্ডা ত্রিনেত্রা অষ্টভুজা –তাঁর ডান দিকের চার হাতে থাকে যথাক্রমে পদ্ম, বাণ, ধনুক ও কমণ্ডলু; এবং বাঁদিকের চার হাতে থাকে যথাক্রমে চক্র, গদা, অমৃতপূর্ণ রুধিরাপ্লুত ঘট ও জপমালা। তাঁর বাহন সিংহ।

    নবরাত্রির চতুর্থ দিনে সাধক তাঁর মনকে অনাহত চক্রে রেখে দেবী কুষ্মাণ্ডার পূজা করেন। দেবীর পূজায় রোগশোক দূরীভূত হয়; ভক্ত আয়ু, যশ, বল ও আরোগ্য লাভ করেন। মনে করা হয়, দেবী কুষ্মাণ্ডা অল্প পূজাতেই সন্তুষ্ট হন। তাঁর পূজায় কুষ্মাণ্ড (কুমড়ো) বলি দেওয়ার রীতি আছে।

    কাশীতে দেবী কুষ্মাণ্ডার মন্দির বিখ্যাত। কাশীতে তিনি দুর্গা নামেই সমধিক পরিচিতা। তিনি কাশীর দক্ষিণ দিকের রক্ষয়িত্রী। কাশীখণ্ডে রয়েছে, অসি নদীর সঙ্গমস্থলে কুষ্মাণ্ডার অধিষ্ঠান। দেবীর মন্দিরটি বেশ বড়ো ও বহুচূড়াবিশিষ্ট। লাল পাথরের তৈরি সুদৃশ্য এই মন্দিরের কাছেই কাশীর বিখ্যাত তীর্থ দুর্গাকুণ্ড।

    এই মন্দিরে হিন্দুধর্মে অবিশ্বাসীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে দেবী কুষ্মাণ্ডার পশ্চিমমুখী দুই হাত উঁচু বিগ্রহটি অবস্থিত। কাশীতে একমাত্র এই মন্দিরেই নিয়মিত বলিদান হয় (এছাড়া কালরাত্রি মন্দিরে বছরে একবার বলি হয়)। শারদীয়া ও বাসন্তী নবরাত্রির চতুর্থীর দিন এই মন্দিরে প্রচুর ভক্তসমাগম হয়।

  • মা চন্দ্রঘণ্টা
    Stories

    মা চন্দ্রঘণ্টা

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    মা চন্দ্রঘণ্টা মহাসরস্বতীর অবতার

    আবাস পর্বত, মণিপুর চক্র

    গ্রহ  চন্দ্র

    অস্ত্র  ত্রিশূল, পদ্ম, গদা, কমণ্ডলু, খড়্গ, ধনুক, তীর, অক্ষমালা, অভয়মুদ্রা, বরমুদ্রা

    বাহন সিংহ

    সঙ্গী  চন্দ্রচূড়/চন্দ্রশেখর (শিব)

    দেবী চন্দ্রঘণ্টা দেবীমহাসরস্বতীর নবদুর্গা অবতারের তৃতীয় মূর্তি বলে বর্ণিত। দেবী চন্দ্রঘণ্টার পূজা নবরাত্রিক ব্রতের তৃতীয় দিনে শুক্লতৃতীয়াকল্পে সম্পন্ন হয়। মণিপুর চক্রে অবস্থিতা,কোটিসূর্যসঙ্কাশা দশভুজা ত্রিনেত্রা এই দেবী সাধকের সকল দুর্গতি,বিঘ্ন নাশ করেন। তিনি হিমালয়দুহিতা ও শিবের পত্নী।

    প্রচলিত লোককাহিনী অনুসারে শিব-পার্বতীর বিবাহের দিনে অনুষ্ঠান পণ্ড করার মানসে তারকাসুর দৈত্যবাহিনী প্রেরণ করলে বিবাহকার্য নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে দেবী পার্বতী ত্রিনেত্রা দশভুজা সিংহবাহিনী রূপে আবির্ভূতা হন ও চন্দ্রসম বিশাল ও শুভ্র ঘণ্টা বাজিয়ে সকল দৈত্য বিতাড়ন করেন। আরেক মতে শিব বিবাহকালে বিকট রূপ পরিগ্রহ করে ভূতপ্রেতাদি অনুচর সহ বিবাহসভায় উপস্থিত হলে তাঁদের দেখে মেনকা মূর্ছিতা হন। দেবী পার্বতী শিবের এই রূপের বিপ্রতীপে চন্দ্রঘণ্টা রূপ ধারণ করেন। দেবীর এই যোদ্ধৃরূপ দেখে শিব চণ্ড রূপ সংবরণ করেন ও বিবাহের জন্যে অপূর্ব মনোহর চন্দ্রচূড় বা চন্দ্রশেখর রূপ পরিগ্রহ করেন।

  • মা ব্রহ্মচারিণী
    Stories

    মা ব্রহ্মচারিণী

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    ব্রহ্মচারিণী মানে একজন নিবেদিতপ্রাণ মহিলা ছাত্রী যিনিতার গুরুর সাথে অন্যান্য ছাত্রদের সাথে আশ্রমে থাকেন। তিনি মহাদেবীর নবদুর্গা রূপের দ্বিতীয় রূপ] এবং নবরাত্রির দ্বিতীয় দিনে পূজা করা হয়। দেবী ব্রহ্মচারিণী পার্বতীর একটি রূপ এবং সাদা পোশাক পরিধান করেন, তার ডান হাতে একটি জপমালা এবং তার বাম হাতে একটি কমন্ডলু ধারণ করেন।

     কুমারী পার্বতী শিবকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন । তার বাবা-মা তাকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করে, কিন্তু সে অবিচল থাকে এবং প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে তপস্যা করে।

    ইতিমধ্যে, দেবতারা কামদেবের কাছে আসেন , প্রেম এবং লালসার হিন্দু দেবতা, এবং তাকে পার্বতীর জন্য শিবের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি করতে বলেন।

    কামদেব শিবকে কামনার তীর নিক্ষেপ করেন। শিব তার কপালে তৃতীয় চোখ খুলে কামকে পুড়িয়ে ছাই করে দেন।

    পার্বতী শিবের উপর জয়লাভ করার জন্য তার আশা বা তার সংকল্প হারান না। তিনি শিবের মতো পাহাড়ে বাস করতে শুরু করেন এবং তিনি যে কাজগুলো করেন, যেমন তপস্যা , যোগ এবং ধ্যানে নিযুক্ত হন ; পার্বতীর এই দিকটিকেই দেবী ব্রহ্মচারিণী বলে মনে করা হয়। তার তপস্বী সাধনা শিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তার আগ্রহ জাগ্রত করে। তিনি ছদ্মবেশে তার সাথে দেখা করেন এবং শিবের দুর্বলতা এবং ব্যক্তিত্বের সমস্যাগুলি গণনা করে তাকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেন।পার্বতী শুনতে অস্বীকার করেন এবং তার সংকল্পে জোর দেন।

    এই সময় প্রকণ্ডসুর নামক অসুর তার লক্ষাধিক অসুর নিয়ে পার্বতীকে আক্রমণ করে। পার্বতী তার তাপস শেষ করার শেষ পর্যায়ে, এবং নিজেকে রক্ষা করতে অক্ষম। পার্বতীকে অসহায় দেখে, দেবী লক্ষ্মী এবং সরস্বতী হস্তক্ষেপ করেন কিন্তু রাক্ষসদের দ্বারা সংখ্যায় বেশি। অনেক দিন যুদ্ধের পর পার্বতীর পাশের কমণ্ডলু পড়ে এবং বন্যায় সমস্ত রাক্ষস ভেসে যায়। অবশেষে, পার্বতী তার চোখ খুলে দেয়, আগুন নির্গত করে এবং রাক্ষসকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।

    শিব ছাড়া দেবী পার্বতীর দ্বারা সম্পাদিত তাপস্যা দ্বারা মহাবিশ্বের সকলেই মুগ্ধ। শিব শেষ পর্যন্ত ভ্রমচারীর ছদ্মবেশে পার্বতীকে দেখতে যান। তারপর তিনি পার্বতীকে তার ধাঁধা দিয়ে পরীক্ষা করেন, যার উত্তর তিনি সঠিকভাবে দেন। পার্বতীকে তার মস্তিষ্ক এবং সৌন্দর্যের জন্য প্রশংসা করার পর, ব্রহ্মচারী তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পার্বতী উপলব্ধি করেন যে তিনি শিব এবং গ্রহণ করেন। শিব তার আসল রূপে আবির্ভূত হন এবং অবশেষে তাকে গ্রহণ করেন।