-
|| ছায়াহীন শহর ||
Audio File Please Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita
Shadowless City
সূর্য্য ওঠার পরে দেখি
ছায়া সবথেকে বড়।
ছায়ার দৈর্ঘ্য কমতে থাকে
বেলা যত হয় বড়।
পশ্চিম দিকে সূর্য্য ঢললে
ছায়া হয় আবার বড়।
এই ভাবে ছায়ার খেলা চলে
দিনের পর দিন।
কোনোও কোনোও শহর
ছায়াহীন হয় বছরে দুʼদিন।
ইকোয়েটরের সাড়ে তেইশ ডিগ্রী নর্থে
ট্রপিক অফ ক্যান্সার।
ইকোয়েটরের সাড়ে তেইশ ডিগ্রী সাউথে
ট্রপিক অফ ক্যাপ্রিকন।
এই দুই অক্ষাংশের মধ্যে
যে শহরগুলি পড়ে,
তারাই বছরে দুʼদিন
ছায়াহীন হয়ে পড়ে।
ভারতের আটটা স্টেটের সব শহর
পায় এমন শ্যাডোলেস ডে ।
দু হাজার তেইশে পাঁচই জুন আর সাতই জুলাই
কোলকাতার শ্যাডোলেস ডে ।
-
|| ফলের আশা ||
Please Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita
Faler Aasha
মহাভারতে অর্জুনকে শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ –
ফলের কোনোও অধিকার তোমার নেই
তোমার অধিকার কর্মে – তুমি সেটি করে যাও।
ফলটি দেবার অধিকার যাঁর, তিনিই দেবেন
তুমি সময় হʼলে ফলটি পাও।
মানুষ সব সময়ই ফলের জন্য ভাবে এবং
মনটা ভারাক্রান্ত করে।
কবে তার কাজের ফলটি পাবে
সেটা ভেবেই সে মাথা খোঁড়ে।
জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহ –
এ সবগুলোই মানুষের হাতের বাইরে।
মানুষ কখনও কখনও ভাবে যে
এগুলো সে কন্ট্রোল করতে পারে।
মানুষ চেষ্টাও করে এ তিনটিকে
তার হাতের মধ্যে আনতে।
কাজ করে সে এটা নিয়ে
ভাবে, এসব আমার সামর্থ্যে।
আমরা দেখি
দৈত্যকুলে প্রহ্লাদ জন্মায়।
আবার কোনও এক গরীব ঘরে
বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের জন্ম হয়।
মহাভারতে ভীষ্মের ইচ্ছামৃত্যু
দেখা যায়।
কিন্তু সাধারণ ভাবে সত্যিই কি কারো
ইচ্ছামৃত্যু হয়?
যদিও কিছু কিছু মণীষির মৃত্যু শোনা যায়
যে তাঁদের ইচ্ছামৃত্যু হয়েছে।
সেসব নিয়ে প্রামাণ্য তেমন কিছু নেই
তাই সেসব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তাই সাধারণ ভাবে ইচ্ছামৃত্যু
সম্ভব নয়।
মানুষের জীবনের দিন শেষ আসলে
তার মৃত্যু হয়।
তেমনই জন্ম মানুষের হাতে
সবটুকু আছে কি?
ছেলে বা মেয়ে কে জন্মাবে
তাও জানা যায় কি?
একই রকম ভাবে বিবাহও
সবটুকু মানুষের হাতে নেই।
অনেক সময়ে অনেকের পছন্দসই বিবাহ
ভেঙ্গে যায় কিছু সময় পরেই।
আবার পাত্র-পাত্রীর প্রথমে অপছন্দ হলেও
পরবর্তীকালে তাদের ভালবাসা গভীর হয়।
আগের জেনারেশনে বিয়ে হতো
বাবা-মা বা গুরুজনদের মতে।
এ জেনারেশনে ছেলেমেয়েদের মনে হয়
তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারে তাদের জীবন সঙ্গীকে।
এটা কতটা ঠিক বা কতটা ভুল
সেটা সময়ই বলবে।
এ নিয়ে অনেক পরিবারে অশান্তি আছে
সেটাও হয়ত চলবে।
শেষে বলি
সেই প্রবাদ বাক্য –
জন্ম মৃত্যু বিয়ে
তিন বিধাতা নিয়ে।
-
|| নাম শুনে যায় চেনা – দুই ||
Audio File Please Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita
Naam Shune Jai Chena 2
যুধিষ্ঠির
একজনকে চিনি আমি
নাম তার যুধিষ্ঠির।
কথাবার্তায় খুবই নম্র
কাজকর্মে অতি ধীর।
গম্ভীর মেজাজের মানুষ তিনি
হাসির কথা অপছন্দ।
ভাল খাবার সামনে পেলে
মনে লাগে দারুন আনন্দ।
চেহারাটা একটু গোলগাল
ভাল লাগে না করতে ব্যায়াম।
ঘুমের মধ্যে নাকটি ডাকেন
দিবা নিদ্রায় কতই আরাম।
বাক-যুদ্ধ হলে তিনি
স্হির থাকেন যুদ্ধতে।
লজিক্যালি কথা বʼলে
পেরিয়ে যান সব বাধা-বিঘ্নকে।
নামটি তাঁর যে যুধিষ্ঠির
মিথ্যা কথা বলেন না।
মিথ্যা কথা আসলে মনে
মুখ থেকে বার করেন না।
-
|| নাম শুনে যায় চেনা – এক ||
Audio File Please Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita
Naam Shune Jai Chena – 1
লক্ষ্মী
বড়সড় চোখটি মেয়ের
লক্ষ্ণী নামটি দেওয়া বাবার।
বাড়ীর সুখ পায়নি সে যে
ফুটপাথই তার ঘর সংসার।
অনাথ মেয়ে লক্ষ্মীর যে
বাবা-মা কেউ তো নেই।
গাড়ী চাপা পড়ে মারা গেছে
তারা দুজনে এক সঙ্গেই।
ছিপছিপে ষোড়শী সে
সব সময়েই ব্যস্ত।
আসেপাশের সব মানুষের
দুঃখ ঘোচানোর কাজই তার ন্যস্ত।
ক্যাপটেন বলে অনেকেই তাকে
কেউ আবার দিদিভাই বলে।
সাহসী আর সত্যি কথায়
সবার কাজই করে চলে।
কারো খাবার না থাকলে
দিয়ে দেয় সে নিজের খাবার।
বিপদে পড়লে যে কোনোও মানুষ
ছুটে গিয়ে তাকে করে উদ্ধার।
পড়াশুনা করে সময় পেলেই
শেখায় আবার আশেপাশের ছেলেমেয়েকে।
মুখে তার হাসি লেগেই থাকে যে
কাজ তার কত, ক্যাপটেন যে।
পরিশ্রমী মেয়ে সে
একটি স্কুলে কাজ করে।
ফাইফরমাস থেকে সব রকম কাজ
আর চা বানাতে ভালই পারে।
পুলিশের দল একদিন এলো
ভাঙ্গতে ফুটপাথের সব ঘর।
প্রতিবাদ করে সে সবার আগে
মিউনিসিপ্যালিটি দেয় টালির ঘর।
ফুটপাথ ছেড়ে নতুন ঘরে
সবার হয় নতুন সংসার।
ওদের ছেলে মেয়েরাও বড় হয় ক্রমে
করে নানান রোজগার।
ফুটপাথের ওই মেয়ের জন্য
মানুষগুলো পায় নতুন জীবন।
লক্ষ্মী মেয়ের মনের জোরে
ওই মানুষদের হয় ঊত্তরন।
-
|| শ্যামল, রাধিকা ও স্বপ্নার গল্প – চার ||
Please visit my Youtube channel : Kaleedas Kobita
A story of Shyamal, Radhika and Swapna –4
শ্যামলদের বাড়ীতে সেদিন
রাধিকা এসেছে।
শ্যামল তো বাড়ীতে নেই তাই সে
শ্যামলের মায়ের সঙ্গে গল্প করছে।
এমন সময় শ্যামলের মা দেখে
শ্যামল বাড়ী ফিরেছে।
সঙ্গে বাইকের পিছনে বসা একটি মেয়ে।
শ্যামলের সঙ্গে মেয়েটি বাড়ীতে আসছে।
মেয়েটির শ্যামলা স্লিম চেহারা
দেখতে কিছু আহামরি নয়।
কিন্তু মুখে একটা ঔজ্বল্য আছে
যা একবার দেথলে আবার দেখতে হয়।
মেয়েটিকে শ্যামলের সঙ্গে দেখে শ্যামলের মা
ও রাধিকার কৌতুহলের শেষ নেই।
ʼতোমার নাম কি মাʼ?
শ্যামলের মা প্রশ্ন করে।
ʼআমার নাম স্বপ্নাʼ
মেয়েটি জানায় উত্তরে।
তারপর শ্যামল
স্বপ্নার পরিচয় পর্ব শুরু করে ।
সব কথাতেই শ্যামল
স্বপ্নার প্রশংসা করে।
অনেকক্ষন ধরে শ্যামলের কথা
রাধিকা খুব মন দিয়ে শুনে যায়।
তারপর স্বপ্নার এত প্রশংসা শুনে
বিরক্ত হয়ে গুটিগুটি বেরিয়ে যায়।
শ্যামলের মা রাধিকাকে
পছন্দ করে।
তার স্বপ্নাকে দেখে মনে হয় যে এ মেয়েটিই
বোধহয় এ বাড়ীর লক্ষ্মী হতে পারে।
স্বপ্নার খাওয়া দাওয়া ও নানান কথাবার্তা হয়
শ্যামলের মা ও শ্যামলের বাবার সাথে।
হঠাৎই শ্যামলের মা স্বপ্নাকে প্রশ্ন করে বসে
ʼকবে বিয়ে করবেʼ?
স্বপ্নার শ্যমলা মুখ
লাল হয়ে যায় এই প্রশ্নটাতে।
মুখে চাপা একটা খুশির ঝলক নিয়ে
সে শ্যামলের দিকে তাকিয়ে থাকে।
উত্তরটা শ্যামলই দেয়,
ʼমা আমরা বিয়ে করতে পারি ছʼমাস বাদেʼ।
ʼতার আগে ফ্যাকটরিরʼ
ʼসেলসটা ঠিক করতে হবেʼ।
মা ছেলের কথা শুনে
মুচকি হাসে।
ভাবে এদ্দিনে ছেলের
বিয়েতে মতি হয়েছে।
অবলীলায় কখন যেন সবাই
রাধিকাকে ভুলে গেছে।
মনে হয়, রাধিকার ওই মায়াময় মুখে
কখন যেন আঁধার ঘনিয়ে এসেছে।
-
|| শ্যামল, রাধিকা ও স্বপ্নার গল্প – তিন ||
Please Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita
A story of Shyamal, Radhika & Swapna -3
পঞ্চভূত – স্বপ্নার কথা
স্বপ্নার বাড়ীর খবর
বলি এবার।
পাঁচজন মানুষের পঞ্চভূজের এতই সমন্বয়
যে এটা সবার শেখার।
পঞ্চভূজের মধ্যমণি
বড় মেয়ে স্বপ্না।
বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে ছোট ছেলে দীপক
আর ছোট মেয়ে রত্না।
পাঁচ জনের এই সংসার
এ কথা সবাই জানে।
য়ে যার কাজ করে যায় এখানে
ঝগড়ার প্রবেশ নিষেধ এখানে।
বাবার আছে মুদির দোকান
ভায়ের চাকরী কারখানায়।
হসপিটালের নার্স রত্না
মায়ের পছন্দ ঘরকন্যায়।
স্বপ্না করে
শাড়ীর ব্যাবসা।
শাড়ী আসে নানান জায়গা থেকে
স্বপ্নার কাজ সেগুলো বিক্রি করা।
শ্যামল একদিন বাড়ী থেকে বেরিয়ে
পার্কে বসে আছে।
ব্যাবসা নিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলার থাকলে
স্বপ্না এই পার্কে চলে আসে।
সেদিন স্বপ্না একজনের সঙ্গে কথা বʼলে
বাড়ী ফিরে যাচ্ছে।
এমন সময় সে শ্যামলকে দেখে বলে,
ʼআপনি রোজ আসেন, সমস্ত দিন বসে চলে যানʼ।
ক্লিষ্ট শ্যামল শুনে
প্রথমে একটু থতমত খেয়ে যায়।
তারপর বলে, ʼআপনি কেʼ?
ʼআপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম নাʼ।
ʼআমি স্বপ্না, কাছেই থাকিʼ,
ʼকাজের জন্য এখানে প্রায়ই আসিʼ।
এরপরে দুজনে অনেক কথা বলে
তারপর দুজনেই বাড়ী ফিরে যায়।
পরদিন আবার দুজনে
কথা বলতে আসে এখানে।
স্বপ্নার ভবিষৎ পরিকল্পনা শুনে শ্যামল ঠিক করে
দুজনে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এরপর ব্যাঙ্কে এপ্লিকেসন, ব্যাঙ্ক লোন,
প্রজেক্ট এক্সেকিউসন সারে।
একটার পর একটা কাজ শেষ করে
প্রোডাকসন শুরু করে।
একসঙ্গে দুজনে কাজ করে
এতটাই কাছাকাছি এসে যায়
যে তারা প্ল্যান করে
এবারে দু-বাড়ীতে জানাতে হবে।

















