Poetry

In Poetry category will have various poems will on bengali or bangla. These are based on various issues on the mordern life. This category is only bengali poetry.

  • || ভক্ত – দ্বিতীয় অংশ ||
    Poetry

    || ভক্ত – দ্বিতীয় অংশ ||

    Bhakta Part Two

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    একটু পরে নিজেকে সামলে জমিদারবাবু বললেন,

                 ʼতুমি আজকে থেকেই এখানে আসতে পারʼ।

    ʼআমার অন্দরমহলে একটা কাজ আছেʼ

                      ʼসেটা তুমি চাইলে করতে পারʼ।

    ʼকাজটা একটু ঝামেলারʼ

                    ʼআমার ফাই-ফরমাস খাটতে হবেʼ।

    ʼতোমার এখানে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হবেʼ,

                 ʼআর  মাসে তিন হাজার টাকা মাইনে পাবেʼ।

    ভক্ত তো এক কথায় রাজী

            বললো, ʼআমি কৃপাকে বলে আসছিʼ।

    ʼএকটু পরেই আমি গোপালজীকে ʼ

             ʼসঙ্গে নিয়ে এখানে চলে আসছিʼ।

    একটু পরেই ভক্ত জমিদার বাড়ীতে

                    এসে হাজির হলো।

    একটা বিরাট ঘরে

                     তার থাকার ব্যবস্থা হলো।

    এত বড় ঘর সে দেখেনি আগে

           মনে মনে গোপালজীকে বারবার ধন্যবাদ দিল।

    ভাবলো গোপাজীর কৃপায়

            জমিদার বাড়ীতে তার ঠাঁই হলো।

    ছোট্ট একটা টেবিল যোগার করে

             সে গোপালজীর আসন পাতলো সেখানে।

    গোপালজীর খাট তো সে নিয়ে আসেনি বাড়ী থেকে

           তাই টাকা পেলে সে গোপালজীর একটা খাট আনবে কিনে।

    ভক্ত মন দিয়ে কাজ করে,

            আর গোপালজীর সেবা করে দু বেলা।

    জমিদারবাবুও খুব খুশি তার কাজে

            সে একটুও করে না কোনও কাজে অবহেলা।

    মাঝে মাঝে কৃপা আসে

             তার সঙ্গে দেখা করতে।

    সেও গেছিল কৃপার জন্মদিনে

              ছুটি নিয়ে কৃপার বাড়ীতে।

    সে কৃপার কাছে গল্প শুনেছে

          জমিদার বাড়ীতে দূর্গা পুজো হয় মহা ধুমধাম করে।

    তখন একটা মজার ব্যাপার হয়।

         দশমীর দিন জমিদারবাবু প্রজাদের সঙ্গে বসে খান পুজোর পরে।

    এক প্রকান্ড মাঠে  আসন পেতে বসে

                  মা দূর্গার ভোগ সবাই একসঙ্গে খায়।

    তবে এটা শুধু এ গ্রামের প্রজারা ও তাদের বাড়ীর লোক

                   এই ভোগ খাবার নিমন্ত্রণ পায়।

    প্রসাদ প্রতিজনে একবার করেই পায়।

              আর সেটা মাঠের বাইরে নিয়ে যাওযা মানা।

    তাই বাইরের কেউ

                 এ প্রসাদ খেতে পায় না।

    কিছুদিন বাদে, দূর্গা পুজোর দিন চলে আসে।

           মহাসমারোহে জমিদার বাড়ীতে দূর্গা পুজো শুরু হয়।

    ভক্তের এসময়ে কাজের আর শেষ নেই

                সে মন দিয়ে সব কাজ করে যায়।

    ভক্ত সামনে থেকে দূর্গা পুজো দেখেনি আগে

               তাই তার খুব ভাল লাগে পুজোর সব কাজ।

    সপ্তমী, অষ্টমী আর নবমী কেটে যায় ভালোলাগার ঘোরে

               মায়ের দশমী পুজো আজ।

    মায়ের ঘট বিসর্জন হয়ে গেছে

                               সকলেরই মন খারাপ আজ।

    আবার মা আসবেন আবার এক বছর পরে

       বিকেলে প্রতিমা নিরন্জনে ভক্তের অনেক কাজ।

    দুপরে সেই বহু প্রতিক্ষিত

                  মাঠে বসে প্রসাদ খাওয়ার সময় এসে গেছে।

    ভক্ত সব কাজ সেরে

                   অনেকের সাথে মাঠের দিকে যাচ্ছে।

    হঠাৎ এক বুড়ো ভিখিরি

                        রাস্তায় তার জামা ধরে ডাকলো।

    সে সবাইকে এগিয়ে যেতে বলে

                       ভিখিরির কাছে এগিয়ে গেল।

    ʼআমাকে একটু প্রসাদ দেবে গোʼ

                 ʼজানি প্রসাদ দেওযা বাইরে মানাʼ।

    ʼতুমি তো জমিদারবাবুর খাস লোকʼ

               ʼতাই তুমি এটা পারবে, এটা আমার জানাʼ।

    ʼআচ্ছা আমি দেখছিʼ,

                             ʼতুমি এখানেই বসোʼ।

    ʼআমি তোমার জন্যেʼ

                             ʼএখানেই প্রসাদ আনবʼ।

    কিন্তু ভেতরে সে একটার বেশী

                             প্রসাদ পেল না।

    তাই নিজের প্রসাদটাই

            ভিখিরিকে দিয়ে ঘরে চলে গেল।

    সে না খেয়েই

               বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভারছে।

    জমিদারবাবুর কথা অমান্য করে

               সে বাইরের মানুষকে খাইয়েছে।

    হয়ত তার চাকরিটাই চলে যাবে

               এই অমান্য করা কাজে।

    ক্লান্ত শরীরে কখন

                         চোখটা বন্ধ হয়ে গেছে।

    ঘুম ভেঙ্গে দেখে

                      জমিদারবাবু তাকে ড়াকছে।

    জমিদারবাবু তার হাতে

                        প্রসাদের থালা দিয়ে বললো,

    আমি সব শুনেছি

                       তোমার কান্ড কারখানা।

    তুমি আমার চোখ খুলে দিয়েছ

              পরেরবার থেকে সবাই প্রসাদ পাবে।

    যে আসবে, সেই মাঠে বসে

                              আমার সঙ্গে খাবে।

    ভক্ত সব কথা শুনে

                  খুশিতে তার চোখে জল এসে গেল।

    জমিদারবাবু খুশি হয়ে

                   আরও দায়িত্বপূর্ণ কাজ ভক্তকে দিল।

  • || ভক্ত – প্রথম অংশ ||
    Poetry

    || ভক্ত – প্রথম অংশ ||

    Bhakta – Part One

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    গোপালজীকে নিয়ে যাচ্ছে ভক্ত

               এক্কেবারে একা যাচ্ছে সে।

    একটা মানুষই ভক্তের সঙ্গে ছিল এতদিন

               একটু আগেই ইহলোক ছেড়েছে সে।

    মানুষটি আর কেউ নয়

               সে ভক্তের ঠাকুমা।

    ছোটবেলা থেকে সেই

               ভক্তের বাবা ও মা।

    সেই ছোট্ট ছেলে ভক্তকে

                ঠাকুমাই মানুষ করেছে।

    তাই ঠাকুমা মারা যাবার পর

            ভক্ত পৃথিবীতে এক্কেবারে একা হয়ে পরেছে।

    ছোটোবেলা থেকেই সে হাত জোর করে

           বসে থাকতো গোপালজীর কাছে।

    তার ভক্তি দেখে ঠাকুমাই

                ওর নাম ভক্ত রেখেছে।

    বিকেলবেলা ভক্ত ঠাকুমাকে দাহ করে

      চোখে জল আর গোপাজীকে নিয়ে চলেছে।

    কোথায় যাবে তা সে জানে না

      যেতে যেতে হঠাৎ তার বন্ধুর কথা মনে পরেছে।

    গ্রাম ছাড়িযে একটা ছোটো রাস্তা

       সেটা পেড়িয়েই পাশের গ্রামে বন্ধু থাকে।

    সেখানেই যাবে ঠিক করলো সে

       তাই জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে যেতে থাকে।

    পাশের গ্রামে পৌঁছে তার মনে পরলো

           সকাল থেকে তার কিছু খাওয়া হয়নি।

    গোপালজীরও পুজোও হয়নি,

           ভোগ নিবেদনও করা হয়নি।

    সামনে একটা মিষ্টির দোকান দেখে

            সে সেখানে দাঁড়িয়ে পরলো।

    তার কাছে যা পয়সা ছিল

            তা দিয়ে দুটো জিলিপি কিনে ফেনলো।

    ভালকরে হাত ধুয়ে সে বাইরে রাখা

            একটা বেঞ্চির কোণায় গিয়ে বসলো।

    ʼখাও বাবা, বেশী পয়সা তো নেই, এটাই খাওʼ

        মনে মনে এই কথা গোপালজীকে প্রার্থণা করে বললো।

    মিনিট খানেক বাদে ঠোঙা থেকে

            বার করে সে জিলিপি দুটি খেলো।

    তারপর দোকান থেকে

             একটু জল খেয়ে নিলো।

    দোকানদারকে জিজ্ঞেস করে, রাস্তাটা বুঝে

         সে বন্ধুর বাড়ীর দিকে হাঁটতে শুরু করলো।

    একটু পরেই সে তার বন্ধু কৃপার

             বাড়ীতে পৌঁছে গেল।

    কৃপা বন্ধু ভক্তকে দেখে

              দারুন খুশি হলো।

    অনেকদিন পরে বন্ধুকে পেয়ে

              নানান গল্প শুরু হয়ে গেল।

    কিছু পরে  কৃপার মা রাত্রের খাবার খেতে ডাকলো.

              খাবার শেষে আবার গল্প শুরু হলো।

    অনেক রাত্রি পর্যন্ত চললো সেই গল্প

         ভোররাত্রে দুজনেই অজান্তে ঘুমিয়ে পরলো।

    সকালে উঠে কৃপা বললো

             ʼচল যাই জমিদারবাবুর বাড়ীতেʼ।

    ʼআমার ওখানে যেতে হবেʼ

         ʼউনি একটা কাজ দিয়েছেন আমাকেʼ।

    জমিদারবাবুর গল্প কাল রাত্রে হয়েছে,

                 উনি প্রজাদের ভগবান।

    কেউ কোনও অসুবিধায় পরলে

             সবাই তার সাহায্য পায় নানান।

    দুই বন্ধু একটু পরেই

             জমিদারবাবুর বাড়ীতে পৌঁছে গেল।

    কৃপা ভক্তকে একটা বেঞ্চিতে বসিয়ে

             নিজের কাজে চলে গেল।

    একটু পরেই জমিদাররবাবু

             সেখানে উপস্থিত হলেন।

    বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথা বলে

             ভক্তের সামনে এসে দাঁড়ালেন।

    ʼতোমাকে তো আগে দেখিনিʼ

                   ʼতুমি কি নতুন এসেছো এখানেʼ?

    ভক্ত তার পরিচয় দিল

                         তার সব ঘটনা জমিদারবাবুকে বললো।

    ভক্তের কথা শুনে

                          জমিদারবাবু এতই দুঃখ পেলেন,

    যে তাঁর দুচোখ ছলছলিয়ে উঠলো,

                                 তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন।

    চলবে……..

  • || উত্তমকুমারের জীবনের কিছু অজানা কথা ||
    Poetry

    || উত্তমকুমারের জীবনের কিছু অজানা কথা ||

    Audio File

    Some Untold Story of Uttam Kumar

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    উত্তমকুমারের অনেক কথা

           এগুলো অনেকেরই নয় জানা।

    কিছু কথা বলেছেন ওনার এক কো-অ্যাকটার

          তার নামটা থাক না অজানা।

    অভিনয়ের প্রথম প্রবলেম

             যা সবারই হয়ে থাকে।

    হাতটা কোঘায় রাথব আমি

         এ চিন্তা মনে ঘুরপাক করতে থাকে।

    নতুন নায়িকা এটি বলায়

         উত্তমকুমার তাকে উদ্ধার করে।

    কখনও চুল, কখনও শাড়ী কিম্বা গলার হার

        এসবে হাত দিয়ে সে এটা ম্যানেজ করে।

    এবারে সেই শেষ শটের ঘটনা

       উত্তমকুমার সিঁরি দিয়ে নিচে নামছেন।

    অকেকবার শটটি নেওয়া হয়েছে

          কিন্তু উনি বারবার রিটেক করছেন।

    কিছুতেই ওনার পছন্দ হচ্ছে না,

       ওনার মনে হচ্ছে অভিনয়টা হচ্ছে না ভালো।

    শেষে পরিচালকের কথামতো একটা শটের

       পর সেটে সবাই হাততালি দিয়ে উঠলো।

    এভাবেই শেষ হলো ওনার অভিনয়

             জীবনের শেষ শটের সময়।

    খুঁতখুঁতে মানুষটির মন ভরে নি সেদিন

       পারফেক্টশনিস্টের কাজ পাচফেক্ট না হওয়ায়।

    একটি ফিল্মে একটি চুম্বন দৃশ্য ছিল

      যে অভিনেত্রীর সঙ্গে এটি করার কথা আছে,

    তার তো দুঃশ্চিন্তায় হাত-পা ঠান্ডা

      শুনে উত্তমকুমার বললেল, ʼম্যানেজ হয়ে যাবেʼ।

    তারপর সেটি পিছন দিক থেকে

                 শুট করা হয়।

    পরে সেটি এডিট করে

                 ব্যাপারটি শেষ হয়।

    উত্তমকুমারের ভুতের ভয় নিয়ে

               একটি ঘটনা আছে।

    পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে

             উত্তমকুমার বেরাতে গেছেন।

    সেখানে প্ল্যানমতো সবাই মিলে

             একটা বাড়ীতে উঠেছেন।

    পরে উত্তমকুমার শোনেন যে

         এ বাড়ীতে একজন আত্মহত্যা করেছেন।

    তখন তাঁর মনের শান্তি উবে যায়

         ভুতের ভয়ে তিনি বাড়ী ছেড়ে চলে যান।

    উত্তমকুমারের খুব সাপে ভয় ছিল,

      বিহারে বেরাতে গেছেন সবার সাথে।

    মাঝরাত্রে উঠে হঠাৎ তার চোখে পরে

      উঠোনে একটা চিতি সাপ ঘুরছে।

    এ দেখে তিনি বাড়ী ছেড়ে বেরিয়ে যান

            রাত্রী কাটান সামনের মাঠে।

    উত্তমকুমার ভলিবল, ফুটবল, ক্রিকেট

                 খেলতে ভালবাসতেন।

    এছাড়া সাঁতার, লাঠিখেলা, কুস্তিও

                  প্র্যাকটিস করতেন।

    তিনি সময় করে

             হিন্দি ও উর্দুও শিখতেন।

    আবার তিনি অবসরে

            গানেরও তালিম নিতেন।

  • || বিখ্যাত অভিনেত্রী মীনাকুমারী কে জানেন? ||
    Poetry

    || বিখ্যাত অভিনেত্রী মীনাকুমারী কে জানেন? ||

    Do You Know the Origin of Renowned Film Star Minakumari

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    বিখ্যাত অভিনেত্রী মীনাকুমারী

           উনিশশো বাহাত্তরে পাকিজা করেন।

    তার আগে সাহেব বিবি অউর গুলাম,

      পরিনীতা ও বৈজুবাওরা ছবিতে অভিনয় করেন।

    নায়িকা হয়ে প্রথম সিনেমা উনিশশো উনপঞ্চাশে

        বীরঘাতক ছবিতে অভিনয় করেন।

    তবে ছʼবছর বয়েসে উনিশশো উনচল্লিশে

                     বেবী মীনা নামে অভিনয় শুরু করেন।

    তার আসল নাম মেহজবীন বানু

           জন্ম হয় উনিশশো তেত্রিশে মুম্বইতে।

    মায়ের নাম  ইকবাল বানু

          যার আগের নাম ছিল প্রভাবতী বিয়ের আগে।

    মা  সুকন্ঠী ও নৃত্য-পটিয়সি ছিলেন

                 তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে নিকা করেন,

    হারমোনিয়াম বাদক ও সংগীত শিক্ষক

                          মুম্বাইয়ের আলি বক্সের সাথে।

    ইকবাল বানুর প্রথম একটি

                        কন্যা সন্তান হয়।

    তারপর দ্বিতীয় সন্তানও

                       আরেক কন্যা হয়।

    আলি বক্স দ্বিতীয় সন্তানটিকে

          একটি আশ্রমের বারান্দায় রেখে,

    যখন ফিরে যাচ্ছেন

            কন্যাটি হঠাৎ কেঁদে ওঠে।

    মেয়ের কান্না শুনে তিনি

           মেয়েকে তুলে নেন কোলে।

    তার সেই  দ্বিতীয় মেয়েকেই চেনে সবাই

        মেহজবীন বানু  বা মীনাকুমারী বলে।

    মীনাকুমারীর দিদিমা হেমসুন্দরী

      বাল্যবিবাহের হাত থেকে মুক্তি পেতে,

    খ্রীষ্টধর্ম গ্রহণ করেন আর

       চলে আসেন বাংলা থেকে মীরাটে।

    হেমসুন্দরী মীরাটে এসে

               বিয়ে করেন পেয়ারীলালকে,

    যাকে ওখানে সবাই

        গল্পকার ও সাংবাদিক হিসেবে চেনে।

    ঐ হেমসুন্দরী ঠাকুর পরিবারের,

         রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্রী।

    তাই মীনাকুমারী আসলে

          রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রপৌত্রী।

  • || মান্না দের বুকে ব্যথা কেন?||
    Poetry

    || মান্না দের বুকে ব্যথা কেন?||

    Audio File

    Manna Deyer Buke Byatha keno?

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    মান্না দে রোজকার মতো গানের রেওয়াজ

              করছিলেন ব্যাঙ্গালোরের বাড়ীতে।

    হঠাৎ গান বন্ধ করতে হলো

                 তার বুকে অসম্ভব ব্যথাতে।

    দেবী শেঠিকে ফোন করা হলো

            তিনি বললেন পরীক্ষা করতে হবে।

    তাই ওনার সাজেসন, ইমেডিয়েটলি

            হসপিটালে অ্যাডমিট করতে হবে।

    মান্না দে তাই চললেন

             দেবী শেঠির হসপিটালের পথে।

    মান্না দের সঙ্গে তার

             এক আত্মিয়ও যাচ্ছেন তার সাথে।

    হসপিটালালের গেটের মুখে

              বেশ ভালো ভীড় আছে জমে।

    সামনে একটু এগিয়ে

           বোঝা গেল আসল ব্যাপারটি ক্রমে।

    বাইরের কেউ নয়, হসপিটালের

         কর্মচারীরাই দুপাশে দাঁড়িয়ে আছে।

    ডঃ শেঠির কাছে খবর পেয়ে

         সবাই ফুল জোগার করে এনেছে।

    মান্না দে যখন গেটের

               সামনে পৌঁছুলেন,

    সবাই তার হাতে ফুল দিয়ে

           তাড়াতাড়ি আরগ্য কামনা করলেন।

    মান্না দে খুবই

               অপ্রস্তুত হলেন।

    এই সতঃস্ফুর্ত অভিবাদনে

               আপ্লুত হয়ে পরলেন।

    মানুষের এমন ভালবাসা পেয়ে

         তার মনটা খুশিতে ভরে গেল।

    তার চোখ থেকে কখন যেন

          আনন্দাশ্রু গড়িয়ে পড়লো।

    তাকে হসপিটালে তাড়াতাড়ি

              এ্যাডমিট করানো হলো।

    একটু বাদে তার

              চিকিৎসাও শুরু হলো।

    ডঃ শেটি মান্না দে কে

             পরীক্ষা করলেন।

    আর কিছু টেস্ট করানোর

            তখনই ব্যবস্থা করলেন।

    বললেন, ʼদেখুন আপনাকে ওই টেস্টগুলোরʼ

                           ʼজন্য অপেক্ষা করতে হবেʼ।

    ʼসম্ভবতঃ তেমন ক্রিটিকাল কিছু হয় নিʼ

           ʼতবে টেস্টের রেজাল্টে তা কনফার্ম হবে।ʼ

    টেস্টের রেজাল্টগুলো

                         মোটামুটি ভালই এলা

    খুব তাড়াতাড়ি

                  মান্না দের শরীর সুস্হও হয়ে গেল।

    মান্না দেকে দেবী শেঠি বললেন,

                    ʼআপনি এখন সম্পূর্ণ সুস্হ হয়ে গেছেনʼ।

    ʼআপনাকে আজই ছেড়ে দেবʼ,

                 ʼতবে ওষুধগুলো দুমাস খেয়ে যাবেনʼ।

    মান্না দে খুশি হয়ে বললেন,

                        ʼথ্যাঙ্ক ইউ ডক্টর, আমি এখন একদম ভালʼ।

    আমার বিলটা পাঠিয়ে দিন প্লিজ

                 আর রিলিজ সার্টিফিকেটটা লিখে দিন।

    একটু পরে লম্বা একটা বিল এল

                                            মান্না দের হাতে।

    কিন্তু এ কি!, বিলে সব আইটেমই আছে,

                         কিন্তু শূন্য বসানো চার্জের সব জায়গাটাতে।

    মান্না দে দেবী শেঠিকে ডাকলেন,

               ʼডাক্তারবাবু এ কি করে হয়ʼ?

    ʼবিলের টোটাল চার্জ জিরো ʼ?

                 ʼভুল হয়েছে বোধহয়ʼ।

    ʼস্যার, আপনার গান শুনেʼ

                  ʼছোটোবেলা থেকে বড় হয়েছিʼ।

    ʼতখন ঐ সব গানেʼ

                  ʼখুশিতে আপ্লুত হয়েছিʼ।

    ʼআর আপনার বেদনার গানেʼ

                  ʼমনে দুঃখ অনুভব করেছিʼ।

    ʼতাই সেই মানুষটাকে সেবা করতে পেরেʼ

                  ʼমনে একটু আনন্দ পেয়েছিʼ।

    মান্না দে জড়িয়ে ধরলেন

                              ডঃ দেবী শেঠিকে।

    কোনও কথা বেরলো না

                               তাঁর মুখ থেকে।

    মনে মনে ভাবলেন, মানুষের এত

                              ভালবাসা আমার গানে।

    এক অসীম পরিতৃপ্তি পেলেন

                                নিজের প্রাণে।

  • || ভুঁড়ি কেলেঙ্কারী ||
    Poetry,  Uncategorised

    || ভুঁড়ি কেলেঙ্কারী ||

    Bhunri Kelenkari

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    ইয়াং ছেলেরা বাববার

              নিজের চেহাড়া খেয়াল করে।

    এতটূকুও ভুঁড়ি চলবে না তো

              সে যে হিরোর চেহাড়া নষ্ট করে।

    মেয়েরাও যখন ইয়াং থাকে

           ভুঁড়ির চিন্তা নেই যে তার।

    ফুচকা আর আলুকাবলি

              সবসময়েরই পছন্দের খাবার।

    ভুঁড়ি-টুঁড়ি কেন হবে

               ওসব প্রবলেম ছেলেদের।

    মেয়েদের ওসব ফ্যাট-ট্যাট লাগেনা

               নেই ঝামেলা এই বয়েসের।

    ব্যাপারটা তো অনেকটাই ঠিক

            কিন্তু সবটা সত্যি নয়।

    ছেলেদের ভুঁড়ি সত্যি তাড়াতাড়িই বাড়ে

            মেয়েদের অত তাড়াতাড়ি নয়।

    ভুঁড়ি আসলে সকলেরই হয়

             এক্সারসাইজ না করলে।

    যে খাবার থাই আমরা

             তার ক্যালোরি খরচ না হʼলে।

    ফ্যাট তৈরী হয় ওই

                 না খরচ হওয়া ক্যালোরি থেকে।

    ফ্যাটের পছন্দের জায়গাটাতে

                           জমে গিয়ে ওই পেটে।

    ভুঁড়ির শুরু ওখান থেকেই

             জমে তারপরে সবখানে।

    নোয়াপাতি ভুঁড়ি দেখলে ছেলের

             সমৃদ্ধির কথা জনেজনে।

    ছেলে থুশি হয়ে

        যেই সে ভুঁড়ির যত্ন শুরু করে,

    হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা কিডনির রোগ

               একে একে ঘিরে ধরে।

    এক ছিপছিপে মিষ্টি মেয়ে

           হঠাৎ বিয়ের পরে,

    একটু একটু করে

           মোটা হতে শুরু করে।

    সে আবার যথন

             সন্তান ধারন করে,

    গর্ভস্থ শিশুর বাড়ার জন্য

             শরীর পেটের পেশী শিথিল করে।

    শিশুর জন্মের পরে

       সেই শিথিল পেশী ঠিক করতে হʼলে।

    ডাক্তার তাকে নিয়মিত

                    এক্সারসাইজ করতে বলে।

    এক্সারসাইজ না করলে

          ভুঁড়ি এসে পেটে জমে।

    অনেক কাঠখড় পুড়োনোর পরে

           তখন সেটা কমে।  

    পেটের ভেতরে যে ফ্যাট জমে

         তাকে ভিসেরাল ফ্যাট বলে।

    ত্বকের নীচের ফ্যাটকে

         সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট বলে।

    আর ত্বকের ওপরে যে ফ্যাট জমে

         তাকে স্ট্যাবোর্ন ফ্যাট বলে।

    এই তিনটি ফ্যাটের

        সমন্বয়েই ভুঁড়ির সৃষ্টি হয়।

    স্ট্যাবোর্ন ফ্যাট খুব

          নাছোড়বান্দা স্বভাবের হয়।

    একে তাড়ানো এক

          মহামুশ্কিল কাজ হয়ে যায়।

    ভুঁড়ি একটি লাইফ স্টাইল প্রবলেম

         এটির প্রভাবে বিভিন্ন অসুখ হয়।

    হাই ব্লাডপ্রেশার, সুগার ও

         হজমের গন্ডগোল শুরু হয়ে যায়।

    যত্নের ভুঁড়িটি কমাতে

            খাওয়া কমালেই হয় না।

    নিজের জীবনশৈলীর

             পরিবর্তন করতে হয়।

    কার্বোহাইড্রেট, মিষ্টি ও ভাজাভুজি খাওযাতে

                  ব্রেক লাগাতে হবে।

    কায়িক পরিশ্রম, হাঁটাহাঁটি ও

          ঘাম ঝরানোর কাজ করতে হবে।

    ভুঁড়ি কমানোর প্রচেষ্টায়, দই, শশা ও

        রায়তার মতো খাবার খেতে হবে।

    এগুলি অনেকক্ষণ পেটে থাকে

        তাই পেট ভরা থাকবে।

    রান্নায় তেল খাওয়া

            কমানো দরকার।

    আপেল, পেয়ারা, আঙুর ও ছোলার মতো

        ফাইবার খাওয়া দরকার।

    রাত্রি ছাড়া কিছু খাবার

       তিন-চার ঘন্টা পরপর খেতে হবে।

    অনেকক্ষণ না খেলে, শরীর সঞ্চয়ের জন্য

        যে কোনও খাবার ফ্যাটে রূপান্তরিত হবে।

    ডিনার অল্প পরিমানে

               খাওয়া দরকার।

    খাবারের এক থেকে দুঘন্টা পরে

                উচিত ঘুমোবার।