Poetry

In Poetry category will have various poems will on bengali or bangla. These are based on various issues on the mordern life. This category is only bengali poetry.

  • দূর্গাপুজো
    Poetry

    দূর্গাপুজো

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    আশ্বিন মাসে দেবীপক্ষ আসে

             মহালয়ার পরদিন থেকে।

    ভারতবর্ষের মানুষের মন

             আনন্দেতে নাচতে থাকে।

    বৎসরান্তে দূর্গামা সপরিবারে

              আসেন এই মর্ত্যধামে।

    বহু মানুষের রোজগার হয়

               পুজোয় বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে।

    মায়ের সাথে আসেন

                 মেয়েরা মা লক্ষ্মী আর মা সরস্বতী।

    সঙ্গে দেব সেনাপতি কার্তিক

                   আর সিদ্ধিদাতা গনপতি।

    সব দেব দেবীর সঙ্গে

                 আসে তাদের বাহনেরা।

    সিংহ, পেঁচা, হাঁসের সঙ্গে

            আসে ইঁদুর আর ময়ুরেরা।

    মায়ের আশীর্বাদে মহিষাসুরও আসে

                   সঙ্গে নিয়ে মহিষটিকে।

    সবাই যে পুজো নেয়

                মর্তবাসীর কাছ থেকে।

    মা দূর্গার পুজো শুরু হয়

          দেবীপক্ষের মহাষষ্টিতে।

    এদিন পুজোর কন্পারম্ভ হয়

            বোধনের কার্ষটিতে।

    মায়ের নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে

            প্রতিষ্ঠা হয় নবপত্রিকা মহাসপ্তমীতে।

    তারপরে দেবীর ঘট স্থাপন, দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা,

             দেবীর চক্ষুদান হয় একে একে।

    মহাসপ্তমীর পরেরদিন

             শুরু হয় মায়ের পুজো মহাষ্টমীতে।

    মায়ের কাছে ভক্তদের ভীড়

             লেগে যায় মাকে অন্জলী দিতে।

    মহাষ্টমী ও মহানবমীর সংযোগ সময়ে যে

            বিশেষ পুজোটি হয় সেটি সন্ধিপুজোর ক্ষন।

    পুরানের কাহিনি মতে এই সময়টিতেই

           মহিষাসুর মা দূর্গার হাতে বধ হন।

    মহাষ্টমীর পরদিন মায়ের

                   মহানবমী পুজো শুরু হয় ।

    এদিন রাত্রে মায়ের যাবার কথা ভেবে

                 ভক্তদের মন খারাপ আরম্ভ হয়।

    রাত পোহালেই মায়র

                বিদায়ের ঘন্টা বেজে যাবে।

    এ চিন্তায় ভক্তরা মনমরা,

                কাতর হয়ে থাকে।

    মহানবমীর পরেরদিন মায়ের

                 মহাদশমী পুজো শুরু হয়।

    মাকে দধিকর্মা খাইয়ে

                মাকে বিসর্জন দেওয়া হয়।

    ছলছল চোখে সবাই পরের বছর

             মাকে তাড়াতাড়ি আসতে বলে।

    সন্ধ্যেবেলায় শোভাযাত্রা করে

              মায়ের প্রতিমা নিরন্জন হয় জলে।

    কলকাতার দূর্গাপুজো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তখমায়

                কলকাতাকে অলংকৃত করেছে।

    বিশ্বের বিভিন্ন মানুষ তাই

            ছুটে আসে এই উৎসবে সামিল হতে।

  • নবরাত্রী
    Poetry

    নবরাত্রী

    Audio File:

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    মাযের পুজোর দশটি দিন          

                তাই নয়টা আছে রাত্রী।

    এ সময়ে দেবীর নʼটি রূপের পুজো হয়

               এ পুজোকে বলে নবরাত্রী।

    আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে

            প্রতিপদে এই পুজো হয়।

    মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে

            দেবীর ঘট প্রতিষ্ঠা হয়।

    পুরান মতে, দশদিন নয় রাত্রী

              লাগে ছিল দেবীর মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধের।

    অবশেষে অষ্টম-নবম দিনের সন্ধিক্ষনে

              মহিষাসুরকে বধ করে জয় হয় দেবীর।

    ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে

               অনেকেই নবরাত্রীর ব্রত পালন করেন।

    নিয়ম মতো এই নয়দিন ফলাহারে থেকে

               মন দিয়ে দেবীর পুজো করেন।

    প্রতিপদে মায়ের শৈল্যপুত্রী রূপের পুজো করা হয়

                    মায়ের ঘট স্থাপনের মধ্যে দিয়ে।

    তিনি পাহাড়ের কন্যা, তাঁর শক্তি

              ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সন্মিলিত শক্তি নিয়ে।

    দ্বিতীয়াতে মায়ের পুজো হয়

                  মায়ের ব্রহ্মচারিণী রূপেতে।

    দেবী ব্রহ্মচারিণী শ্বেত পোষাক পরিহিতা

        আর জপমালা ও কমন্ডলু থাকে দুই হাতে।

    নবরাত্রী পুজোয় তৃতীযাতে

             মা চন্দ্রঘন্টা পূজিত হন।

    বিশাল চন্দ্রসম দেবী একটি ঘন্টা বাজিয়ে

          সব দৈত্য বিতারন করেন।

     চতুর্থীতে দেবী কুষ্মান্ডার পুজো হয়

           ইনি অষ্টভুজা সিংহ বাহনে থাকেন।

    কুষ্মা শব্দের অর্থ ত্রিতাপ বা দুঃখ

           তিনি ত্রিতাপহারিণী,সন্তানদের রক্ষা করেন।

    পঞ্চমীতে দেবী স্কন্দমাতা রূপে পূজিত হন

                কার্তিকের অন্য নাম স্কন্দ,স্কন্দ তাঁর কোলে থাকে।

    স্কন্দের মাতার চার বাহু, ত্রিনেত্র ও সিংহ বাহনে থাকেন,

         তাঁর একটি হাতে অভয় মুদ্রা আরেক হাতে পদ্ম ফুল থাকে।

    ষষ্ঠিতে দেবী আসেন মা কাত্যায়নীর রূপ ধরে

           মা কাত্যায়নী ঋষি কাত্যায়নের কন্যা।

    তিনি মহাশক্তির একটি ভিষণা রূপ

          তাঁর গাত্র মা দূর্গার মতো লাল বর্ণা।

    সপ্তমীতে দেবীকে পুজো করা হয়

                   দেবী ভিষণদর্শণা কালরাত্রী রূপে।

    তাঁর গায়ের রং অন্ধকারের মতো কালো

            তিনি দুষ্টের দমন করেন ভক্তদের থেকে।

    অষ্টমীতে দেবীর পুজো হয়

                 মা মহাগৌরীর রূপেতে।

    মা ভক্তদের সমস্ত ইচ্ছা পূর্ণ করেন

     মহাদেবের ত্রিশুল ও ডমরু তাঁর হাতে থাকে।

    নবমীতে মা আসেন

                মা সিদ্ধিদাত্রীর রূপেতে।

    ভক্তরা মাকে ভক্তিভরে পুজো করেন

                 অষ্টসিদ্ধির আশাতে।

    মা কৈলাশের পথ ধরেন

                   পুজো শেষে দশমীতে।

    ভক্তরা মাকে বিদায় দেয়

             পরের বছর মায়ের পুজোর আশা রেখে।

  • বিদ্যাসাগরের সৃষ্টি
    Poetry

    বিদ্যাসাগরের সৃষ্টি

    Audio File:

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    জ্ঞানের সাগর বিদ্যাসাগর

                  নামেই তুমি সাগর।

    কঠোর মানুষ, কোমল হৃদয়,

                  সবাই বলে দয়ার সাগর।

    বাংলা ভাষার পথিকৃত তুমি

                   বর্ণপরিচয়ের সৃষ্টা।

    শিশু শেখে যুক্তাক্ষর আর

                 ভাল মানুষ হবার প্রচেষ্টা।

    গ্রীস দেশের জেমস্ ঈসপের

                 লেখা বিখ্যাত গল্পমালা।

    অনুবাদ করেন গর্ডন ইয়ংয়ের আগ্রহে

                 রচিত হয় কখামালা।

    ছোট ছোট আটষট্টিটি গল্প এতে

                 যা মনোগ্রাহী হয় শিশু মনে।

    নিতিগর্ভ  এ গল্পগুলি পাঠে

                সুবিধা হয় চরিত্র গঠনে।

    বিখ্যাত বিদেশী মহনুভবদের কথা

              আছে চরিতাবলী ও জীবনচরিতে।

    সাহিত্য, বিজ্ঞান ও বিভিন্ন আবিস্কারের কথা

              জানা যায় এই দুই পুস্তক দুটিতে।

    শিশুমনের বিভিন্ন প্রশ্ন যেমন পদার্থ, ঈশ্বর,

         মানব জাতি, ইন্দ্রিয়, ও ভাষার মানে।

    সম্যক পরিচয় হয় তাদের

          বোধদয় বইটিতে তারা সহজে জানে।

    এই বইটিতে আছে সহজভাবে

               সংখ্যা জেনে গুনতে শেখা।

    আবার ক্যালেন্ডারের সংখ্যা দেখে

               দিনটিকে বলতে শেখা।

    বাংলার রাজা সিরাজউদ্দৌলার শাসন,

                 মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা।

    ভারতবর্ষে মোঘলদের শাসন ও

                ইংরেজদের কাছে পরাধিনতা।

    আখ্যানমঞ্জরী তিনটি ভাগে বিভক্ত

                ছোট গল্প সংকলনটি।

    বালকেরা সামাজিক ব্যবহার শেখে

           তৈরী হতে সঠিক মানুষটি।

    এসব তিনি লিখেছেন

            বাঙ্গলার ইতিহাস পুস্তকটিতে।

    যেটির সংকলন মার্শমন সাহেবের গ্রন্থের

              শেষ নয় অধ্যায় থেকে।

    ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে হিতোপদেশ

             বই লেখার আসে আর্জি।

    বিদ্যাসাগর রচনা করেন

          এ কাজে বেতালপঞ্চবিংশতি।

    তিনি সীতার বনবাস ও বিদ্যাসাগর চরিত

                 ও শকুন্তলা,রচনা করেন।

    আর করেন এক মজার গল্প ভ্রান্তিবিলাস

     যা এক জমজ মনিব আর চাকরের উপাখ্যান।

    এছাড়া তাঁর বাল্য বিবাহের দোষ, বিধবা বিবাহ,

         বহু বিবাহ, ব্রজবিলাস ইত্যাদি রচনা আছে।

    অন্যান্য আরও নানান রচনা সম্ভারও

           বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

    বি: দ্র: – এটি স্বাক্ষরতা প্রকাশনের বিদ্যাসাগর রচনা সংগ্রহ থেকে রচিত।

  • গণেশজীর অবয়ব
    Poetry

    গণেশজীর অবয়ব

    Audio File:

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    গণেশজীর দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলির বিভিন্ন তাৎপর্য্য আছে । সেইগুলিই বর্ণনা করার চেষ্টা করা হয়েছে এই কবিতায় ।

    ওম্ গণেশায় নমঃ ।

    ওম্ গণেশায় নমঃ ।

    ওম্ গণেশায় নমঃ ।

    গণেশজীর  দেহের

                       অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলি,

    আছে তাদের বিশেষ মানে

                   আছে বিশেষ গুণাবলী ।

    শুরু করি গণেশজীর

                         বিশাল ভুঁড়িটি নিয়ে ।

    ব্রহ্মান্ড যে দর্শন হয়

                         এটির মধ্যে দিয়ে ।

    তিনি যে ভাল এবং খারাপ

                         সব কিছু খেয়ে ।

    হজম করেন সবই

                         ওই ভুঁড়িটির মধ্যে দিয়ে ।

    দুই দাঁত তাঁর প্রতীক হয়

                            ঠিক আর ভুলের ।

    অন্যভাবে বলতে গেলে

                     হয় তারা আবেগ ও বাস্তবের ।

    গণেশজীর মাথাটি বড়

                          যেমন হয় হাতির ।

    বড় চিন্তা করেন মনটি দিয়ে

                          উর্দ্ধে উঠে সংকীর্ণতার ।

    গণেশজীর ছোট্ট চোখ

                           বেশী মনোযোগী দেখতে ।

    ভবিষতটা ঠিক করতে

                         বর্তমানের সবকিছু বুঝে চলতে ।

    বড় শুঁড়ের প্রতীক

                          হলো গ্রহনযোগ্যতার ।

    সব পরিস্থিতিকে মানিয়ে নিয়ে

                        কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ।

    ছোটো মুখের প্রতীক হলো

                            কম কথা বলার ।

    কথা কম বলায়

                   শুরু হয়না অনেক ঝামেলার।

    বড় কানের প্রতীক হলো

                    সবকিছু মন দিয়ে শোনার ।

    অপ্রয়োজনীয় ব্যাপার বাদ দিয়ে

                   এগিয়ে যেতে পথে সার্থকতার ।

    গণেশজীর চারটি হাতে

                         চলে বিভিন্ন কাজ ।

    এবারে বলি এক এক করে

                        সে সব কথা আজ।

    একটি হাতে কুড়ুল আছে

               যা পুরোনো ভাল মন্দ ছেড়ে,

    বাঁচতে শেখায় যা আছে

                বর্তমানের সবকিছু ঘিরে ।

    আরেকটি হাতে পদ্ম আছে

          যা মনকে সদা জাগ্রত রাখে ।

    ওই সদা জাগ্রত মন নিয়ে মানুষ

           সার্থকতার পখে চলতে থাকে ।

    অন্য একটি হাতে গণেশজী

               আশীর্বাদ করেন বিশ্ববাসীকে ।

    তাঁর আশীর্বাদে জগতবাসীর

               মনস্কামনা পূর্ণ হয় কার্যসিদ্ধিতে ।

    চতুর্থ হাতটিতে থাকে সুতো

                     যা বস্তুবাদ ছেড়ে,

    মানুষ মোক্ষলাভের পথে

                      এগোতে পারে ।

    গণেশজীর একটি পা থাকে

                       মাটির দিকে ।

    অর্থাৎ যতই ওপরে যাও না কেন

                 মূল ভিত্তিকে যেন মনে থাকে ।

    তাঁর বাহন ইঁদুর

               যেমন সবকিছু দেয় কেটে ।

    এর প্রতীক সব অসৎ ইচ্ছা

                  ধ্বংস করে দেয় মানুষের জীবন থেকে।

  • ইচ্ছাপূর্তি – চতুর্থ পর্ব
    Poetry

    ইচ্ছাপূর্তি – চতুর্থ পর্ব

    ( এই কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ইচ্ছাপূরণ অবলম্বনে রচিত )

    Audio File:

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    এদিকে সুশীল আগে যাত্রাগানের পালায়

               বাড়ী থেকে পালিয়ে পৌঁছে যেত ।

    সে বৃষ্টি হোক, কিম্বা রাত্রে হিম পরুক

                সে যাত্রা দেখে বাড়ী ফিরে আসত ।

    কিন্তু আজকের বুড়ো সুশীল সেই কাজ করতে গিয়ে

             কখনও বা সর্দিকাশি নিয়ে বাড়ী ফিরছে ।

    আবার কখনও গায়ে মাথায় শরীর খারাপ নিয়ে

                তিন সপ্তাহ শয্যাশায়ী হয়ে পরছে ।

    সুশীলের পুরানো অভ্যাস মতো

             পুকুরে চান করতে গেল ।

    এতে পায়ের গাঁট ফুলে

            বিষম বাতের অসুখ ধরলো ।

    সুবলচন্দ্রও কখনও ভুলে গিয়ে

           বুড়োদের সঙ্গে তাস খেলতে চলে গেল ।

    বুড়োরা তাকে দেখে বিরক্ত হয়ে

                   বল খেলতে যেতে দিল ।

    তখন সুবলচন্দ্র একান্ত মনে প্রার্থনা করলো

              আমি যেন আগের মতো বুড়ো হয়ে পরি।

    আর নিজে স্বাধীন হয়ে

                         আগের মতো চলতে পারি ।

    সুশীলচন্দ্রও জোর হাত করে প্রার্থনা করলো

                    আমি আগের মতো ছোট হতে চাই ।

    তাহলে দিনরাত বাবাকে সামলাতে হবে না

                          আর আমি খেলা করে বেড়াই ।

    ইচ্ছাঠাকরুন তাদের কাতর মিনতি

                             শুনে দর্শন দিলেন তাদের ।

    বললেন, ʼছেলের বাবা হওয়ার আর বাবার ছেলে হবারʼ

                   ʼশখ মিটেছে তোমাদেরʼ ?

    দুজনেই সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে বললো, ʼদোহাই ঠাকরুনʼ

             ʼসাধ মিটেছে আমাদেরʼ ।

    ʼতথাস্তু, কাল সকালে পুরোনো রূপে ʼ

                  দেখতে পাবে তোমরা নিজেদেরʼ ।

    পরদিন সকালে সুবলচন্দ্রকে

                           বাবা রূপে দেখা গেল ।

    আর সুশীলচন্দ্র ছেলে হয়ে

                         এক লাফে বিছানা ছেড়ে পালেয়ে গেল ।

    ʼসুশীল ব্যাকরণ মুখস্হ করবে নাʼ?

            সুবলচন্দ্র  চেঁচিয়ে ডাকলো ।

     ʼবাবা আমার বই হারিয়ে গেছেʼ ।

             সুশীল মাথা চুলকিয়ে বললো ।

  • ইচ্ছাপূর্তি – তৃতীয় পর্ব
    Poetry

    ইচ্ছাপূর্তি – তৃতীয় পর্ব

    Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita

    ( এই কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ইচ্ছাপূরণ অবলম্বনে রচিত )

    সুশীল গাছ থেকে পড়ে মাজায়

                  খুব ব্যথা হয়ে গেছে, পিঠেও ধরেছে টান ।

    দাওয়ায় মাদুরে বসে সে চাকরকে হুকুম করলো,

                     ʼবাজার থেকে একশো টাকার লজেন্চুস কিনে আনʼ।

    একশো টাকায় একরাশ লজেন্চুস পেয়ে

                                কয়েকটি দন্তহীন মুখে পুরলো ।

    বাকীগুলো ভাবলো ছেলেকে দেবার কথা

            কিন্তু এতে শরীর খারাপ হতে পারে, পরে মনে হলো ।

    সুবলচন্দ্র আগে ভাবছিল ছোটবেলা ফিরে পেলে

                   সে দিনরাত করবে পড়াশুনা ।

    কিন্তু নতুন ছেলেবেলা পেয়ে

               সে আর স্কুলমুখো হতে চায় না ।

    সুশীল রাগ করে এসে বলে,

                       ʼবাবা স্কুলে যাবে না ʼ ?

    সুবল মাথা চুলকিয়ে বলে,

                     ʼপেট কামড়াচ্ছে, স্কুলে যেতে পারব নাʼ।

    সুশীল চেঁচিয়ে বলে, ʼপারবে না বৈকিʼ,

          এমন অনেক পেট ব্যথা আমার হয়েছে , আমি সব জানি ।

    সুবল কাঁচুমাঁচু হয়ে তাকিয়ে থাকে,

            মনে মনে ভাবে এ কথাগুলো আমি মানি ।

    সুশীল এতরকম ভাবে স্কুল থেকে পালাত

             তা তার সব মনে মনে ভাবলো ।

    তাই বাবাকে রোজ স্কুলে পাঠাতে শুরু করলো

          আর স্কুল থেকে পালানোর রাস্তা সব বন্ধ করলো ।

    সুশীলের বড়ই কড়াকড়ি ছিল

                   খাওয়া দাওয়ার  ব্যাপারে ।

    কারন সে যখন ছোটো ছিল, তার প্রায়ই

          অম্বল হতো উল্টোপাল্টা খাবারে ।

    তাই সুশীল বাবাকে কম খেতে দিত

                          যেন  তার অম্বল না হয় ।

    কিন্তু ছোটবয়সি বাবার

              সেই খাবার তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায় ।

    এতে ছোটবয়সি সুবলচন্দ্র রোগা হয়ে

                           তার হাড় জিবজিরে চেহাড়া হয়ে গেল ।

    সুশীল শক্ত অসুখ করেছে ভেবে

                      গাদাগাদা অসুধ খাওয়াতে শুরু করলো ।