Poetry
In Poetry category will have various poems will on bengali or bangla. These are based on various issues on the mordern life. This category is only bengali poetry.
-
।। চকচকে ছবি ।।
Please Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita
Chakchake Chobi
ছবি আঁকতে বসলাম। কি ছবি?
আমার দেখা পুরোনো ছবি।
পুরোনো পিকচার ফ্রেমের মতো
ধুলো পরে আছে সেই সব অতীতে।
আমার দেখা ছবি।
আমার সেই সব পুরোনো ছবি।
ওটা কি সেরা ছবি? তা বলা যায় না।
অতীতে কোদাল চালিয়ে,তাকে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করতে হবে।
এটাই মনের বায়না।
প্রথমে ট্রেন, তারপর গাড়ী।
যাচ্ছি হায়দারাবাদ থেকে পুরী।
পুরী পৌঁছোলো বিকেল বিকেলে।
নেমে দেখি সামনে মহাসমুদ্র।
আামার সঙ্গে আমার বোনেরা।
সঙ্গে নাটকের কলাকুশলীরা।
নামকরা নাট্যদলের সঙ্গী আমি।
শো ছিল হায়দারাবাদে,
সেখান থেকে ফিরছি বাড়ী।
বাড়ীর পথে পুরী।
সেদিন আবার দোল।
রাস্তায় এখানে সেখানে রঙ পরে।
সামনে বিরাট সমুদ্রের হিল্লোল।কেউ কেউ সোজা ছুট দিলো,
সমুদ্রে পা ভেজাতে।।
কেউ কেউ স্নানের সামগ্রী নিয়ে চললো,
সমুদ্রে স্নান করতে।
আমরা ভাইবোনেরা ঠিক করলাম,
স্নান করবো না।
আমাদের একটাই সুটকেশ।
তার চাবি ভেতরে রেখে, বন্ধ টেপা তালা।
তাই আমাদের জামা কাপড় না পাওয়ার কি জ্বালা।
সমুদ্রে পা ভিজিয়ে একটু আধটু খেলা।
এই হলো আমাদের সমুদ্র- স্নান ঐ বিকেলবেলা।
তারপর ছবি। বিভিন্ন রকম, বিভিন্ন কায়দায়।.
প্যাকেটে খাবার এলো।
সুকনো বালির ওপরে বসে তা সাঙ্গও হোলো।
ততক্ষণে সূর্য্যদেব বাড়ী যাবার পথে।
অসাধারণ সে ছবি।
গোধূলী আলোয় আকাশটা মোড়া।
জলের ঢেউগুলোতে প্রতিফলনে রোশনাই।
মনের ক্যামেরাতে সে ছবির জবাব নাই।
আমাদের পোট্রেটগুলো হারিয়ে গেছে।
কিন্তু মনের ক্যামেরার ছবিটা জ্বলজ্বল করছে।
এবার ফেরার পালা।
একে একে সবাই গাড়ীতে ফেরে।
তারপর আমরা চললাম পুরী ছেড়ে।
সেই গাড়ী, আবার ট্রেন।
ট্রেনে ঘুমিয়ে, উঠে দেখি হাওড়া স্টেশন।
গাড়ী করে বাড়ী একটু পরেই।
এ ছবিটা এইটুকুই।
একটু আধটু ভেঙ্গে গেছে কোদালে।
তা হোক, এটাতো মনের মণিকোঠায় রাখা।
চকচক করছে এটা, অন্য স্মৃতির মধ্যে ঢাকা।
-
।। মন খারাপ l।
Please Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita
Mon Kharap
মন ভাল নেই মনটা খারাপ।
কি যে করি এখন।
শরীরটাও তো কেমন কেমন
বুড়ো মানুষের মতন।
বুড়ো মানুষ নই তো আমি
বয়স পেরোলো সত্তর।
এই তো সেদিন স্কুল পেরোলাম
এক্ষুনি এই মাত্তর।
স্কুল পেরিয়ে কলেজ গেলাম
অঙ্ক নিয়ে পড়তে।
শেষ করে তো ইউনিভারসিটি
আরেকটু বেশী জানতে।
এসব করে ভাবতে বসি
কি করা যায় এখন।
ডক্টরেটটা করলে কি
চাকরি পাব মনের মতন।
মনের টানে কম্পিউটার সায়ান্সে
পড়াশুনা শুরু করি।
শেষ করে তা ইউনিভারসিটির
অধ্যাপনায় হাতে খড়ি।
শুরু হয় এরপর কম্পিউটার সায়ান্সে
পি এইচডির কাজ।
একমাএ ছেলের দায়িত্বে
চাকরি দরকার মনে হʼল আজ।
মাথায় তখন একটাই চিন্তা
পি এইচ ডি আর চাকরি।
একসঙ্গে চালাতে হবে
এটা ভীষন দরকারি।
বানিজ্যিক সংস্হায়
কাস্টমার সাপোর্টের কাজ।
সিরিয়াস প্রফেসনলের ছুটির পরে তাই
মাথা জুড়ে সেই চিন্তা আজ।
পি এইচ ডির কাজ পিছিয়ে পিছিয়ে
শেষমেষ হʼল ভন্ডুল।
ডক্টরেট পাওয়া অধরাই থাকে
মন চাকরি নিয়েই মসগুল।
উন্নতি হয় চাকরির
ছোটো থেকে অনেক ওপরে।
বেস্ট প্রফেসনলের তকমা নিয়ে
নেপাল ভ্রমণ পুরস্কারে।
একটা থেকে অন্য সংস্থায়
সেখান থেকে অন্য।
কাজের নেশায় ছুটে বেড়াই
সবাই করে ধন্য ধন্য।
ইনডাসট্রি থেকে এডুকেসন
অবাধ গতি এল।
অধ্যাপনায় শুরু করে
অধ্যাপনাতেই শেষ হʼল।
চুলের রঙ সাদা হʼল
আর আমি হলাম রিটায়ার্ড।
বেকার লোকের দলে মিশে
আমি এখন টায়ার্ড।
এসব ভেবে মন ভাল নেই
মাথাটাও একটু ধরেছে।
আরও কতকি করার ছিল
সেই সব মনে পড়ছে।
-
।। পেন ।।
Please Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita
Pen
একটা পেন পার্কের ঝোঁপের মধ্যে কুড়িয়ে পেলাম।
এটা সেই ছোটোবেলার কথা।
মা বললো, ʼরেখে আয় যেখানে পেলি সেখানেʼ।
রাখলাম, কিন্তু রইলো মনে ব্যথা।
তারপর কʼবছর পর এলো পেন
পেনে লেখার ইচ্ছা উঠল জেগে।
সেই কালি ভরা পেনে লিখলে
আঙুলে কালি যেত লেগে।
কালি ভরা পেনের পর এল ডট পেন।
সে গুলোতে রিফিল ভরা যেত।
কালী কমলেই রিফিলের মুখের কালি
সাদা ইউনিফর্মে পড়ে পকেট কালো হতো।
সে সব এখন অতীত।
পেন ইন্ডাস্ট্রি অনেক এগিয়েছে।
এখন খুব কম দামে
ভাল ভাল পেন পাওয়া যাচ্ছে।
স্কুল, কলেজ, ইউনিভারসিটিতে
বিভিন্ন পেন ব্যবহার করেছি।
কিন্তু সেই ঝোঁপের মধ্যে পাওয়া পেনের
ছবিটা কি আজও ভুলতে পেরেছি?
আগে সোনালী খাপওলা পেন
শোভা পেত কোটের বুক পকেটে।
মোবাইল ফোন বা রুমাল নিয়েছে
সেই জায়গাটিতে।
পঞ্চাশ বছর আগে মানুষের
একটি পেনেই কাটতো তার কর্মজীবন।
এখন কত শত পেন সেবা করে তার
তারা পায় না, মানুষের আগের মতো যতন।
-
।। টিভি ।।
Please Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobitaa
TV
টিভির দিকে তাকিয়ে দেখি
ভোটে এক দলকে হারিয়ে অন্য দল জিতছে।
বাজি ফাটানো, মিষ্টিমুখ
এ সব কান্ড চলছে।
এখন আবার বিজ্ঞাপন
একের পর এক চলে।
এরা চ্যানেলগুলোর প্রাণ ভোমরা
সত্যি কথাই বলে।
খেলা আছে আজকে আবার
আই পি এলের ফাইনাল।
ওই দলটাই জিতবে
খবরটা তো ভাইরাল।
এদিকে ঠাকুমার কান্নাকাটি শুরু হয়েছে
সিরিয়ালে হিরোর এক্সিডেন্টে।
সিরিয়ালগুলো সব সময়েই
খেলা করে দর্শকদের সেন্টিমেন্টে।
ওয়ার্ল্ডকাপ ফাইনালের মতো
খেলা যখন আসে।
ঘরে, ক্লাবে, হোটেলে ভীড় জমে
টিভির চারপাশে।
বাইরের রাস্তা হয়
একেবারে সুনশান।
স্ট্রাইক হলো আজকে নাকি
দেখছি না কোনও যান।
কোনও দিন কোনও সেলিব্রীটির
স্পেশাল খবর পেতে।
সবার আগ্রহ বেড়ে যায়
তার সব কিছু জানতে।
পুজোর সময় বেজায় মজা
সব চ্যানেলে।
বিশেষ প্রোগ্রাম শুরু হয়ে যায়
সকালে বিকালে।
মুভি চ্যানেলগুলো ব্যস্ত এখন
নতুন সিনেমা দেখাতে।
দর্শকেরা দেখছে সে সব
মজা করে বাড়ীতে।
পরীক্ষার আগে স্পেশাল ট্রেনিং
কিছু চ্যানেল দেখায়।
ছাত্র-ছাত্রীরা সে সব দেখে
সত্যিই উপকৃত হয়।
টিভি কিনবে? এল ই ডি, ফোর কে
নাকি প্লাজমা টিভি চাই?
ও এল ই ডির দামটা বেশী
কিন্তু বেস্ট হʼল ওটাই।
-
|| দৃষ্টি ||
Please Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita
Sight
মানুষ দেখতে পায়
কুড়ি ফুট দূরের জিনিষ।
কারো কারো চোখ খারাপ
তার দৃষ্টি দশ বা পনের ফুটেই শেষ।
কিন্তু আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না
এমন অনেক কিছু আছে।
ব্যাকটেরিয়া বা মলিকুল দেখা যায় না
সেটা থাকলেও ধারে কাছে।
পাখি মানুষের থেকে
অনেক শার্প দেখে।
আলোর আলট্রা ভায়োলেট ফ্রিকোয়নসিতে
যাতে মানুষ দেখতে পায় না, সেটা পাখি দেখে চোখে।
বৈজ্ঞানিক মতে, পাখির দৃষ্টিশক্তি
মানুষের থেকে প্রায় আট গুণ ক্ষুরধার।
ঈগল পাখি অনেক দূর থেকে
ধরে তার শিকার।
অন্ধকারে পেঁচা খুব সহজে
দেখতে পায়।
তবে দৃষ্টিশক্তি সকালের থেকে
রাত্রে অনেক কমে যায়।
মানুষ কম দৃষ্টিশক্তি নিয়েও
পশুপক্ষীদের ডমিনেট করে।
এটা সম্ভব কারণ মানুষের অনেক বেশী
চিন্তা ও বুদ্ধির জোরে।
চর্মচক্ষে মানুষের ক্ষমতা কম
কিন্তু মানস চক্ষে সে করে বিশ্বজয়।
তাই সে ভগবানের শ্রেষ্ঠ জীব
নেই তার কোনও কিছুতেই ভয়।
মেডিক্যল সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স
মানুষ আজ পৌঁছেছে কত ওপরে।
এ তো ভাবনার অতীত
দশ বছর আগেও, এ ছিল কল্পনার বাইরে।
মানুষের ভিসনের জোরে
সে এ সব করতে পারছে।
তাই চর্মচক্ষুতে নয়, চিন্তা ও কল্পনাশক্তি দিয়ে
সে বিশ্বজয় করছে।
-
।। হাঁটা ।।
Please Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita
ডাক্তারবাবুরা বলেন,
ʼডিনার খেয়ে এক মাইল হাঁটোʼ।
যদিও শরীর ঠিক রাখতে
সকালবেলার হাঁটা নয় খাটো।
কেউ আবার বিকেলবেলা
বা সন্ধ্যেবেলায় হাঁটতে যায়।
শরীর চর্চা করতে হাঁটা দরকার
এতে শরীরের অনেক গন্ডগোল কমে যায়।
জীবনের পথে তো
আমরা হেঁটেই চলেছি।
সেই কোন সকালে হাঁটা শিখে
এ রাস্তা, ও রাস্তা দিয়ে হেঁটেই যাচ্ছি।
ইন্জিন যতদিন চালু থাকবে
হাঁটতেই হবে বিভিন্ন পথে।
সে হাঁটা পায়ে পায়ে না হাঁটলেও
যেতে হবে রথে।
কতবার হোঁচট খেয়ে
কত কি হয়েছে।
সাময়িক বিরাম দিয়ে
পথ বদলেছে।
কত কিছু শিখলাম
এই হাঁটতে গিয়ে।
কত মানুষকে বুঝলাম
এর মধ্যে দিয়ে।
কেউ বা বন্ধু হয়ে
হাত বাড়ালো।
কেউ আবার পড়ে যাওয়া দেখে
ফিক করে হেসে চলে গেল।
ফিক করে হাসা লোকটা
যদি সত্যিই বন্ধু হোত?
তার মনের মধ্যে এতটুকু
জায়গা যদি আমার জন্যে থাকতো?
তাহলে পৃথিবীতে সবাই
সবার বন্ধুত্বের সম্পর্ক পাতাতো।
সেই একসঙ্গে হাসা
লাফিং ক্লাবের মতো।
মানষের দুঃখ, কান্না
এসব থাকতো না।
সে একটা মজার দেশ
ভাবাই যায় না।
কিন্তু তুমি হাঁটো
হাঁটতেই হবে।
থেমে যেও না
হাঁটো নিজের পথে।

















