-
।। কন্যা সন্তান ।।
To listen to the same, please click the following YouTube Video:
সুমনার একটি মেয়ে
নাম তার মীরা।
ছোট্ট মেয়ে, লম্বা গড়ন
দুষ্টুমিতে সেরা।
পড়াশুনাতে ভালই সে
কথা শোনে বড়দের।
তাই মিষ্টি মেয়ে পায় সবার আদর
সবার কাছেই সে পছন্দের।
এরপর বছর দুয়েক কেটে গেছে
সন্তান সম্ভবা হয়েছে সে আবার।
ছোট্ট ভাই আসবে মীরার
মনের সুপ্ত স্বপ্ন তার।
ভর্তি হলো সে নার্সিং হোমে
লেবার পেনে সে কাতর।
ভগবানকে ডাকে সবসময়
ছেলেই যেন হয় তার।
একদিন পরেই জন্ম নেয়
সুমনার সেই সন্তান।
একি, আবার মেয়ে হলো
চিন্তার হয় অবসান।
দেখতে শুনতে ভালই সে তো
মীরার মতই টুকটুকে।
বাড়ীর সবাই হা-হুতাস করে
কারো অপছন্দ নয় এই মেয়েকে।
নতুন মেয়ের নাম হলো
মীরার বোন রানী।
শান্তশিষ্ট স্বভাব যে তার
দিদির নয়নের মনি।
পড়াশুনায় দুজনেই ভাল
সেরা যে যার ক্লাসেতে।
খেলাধুলোয় ভালই মীরা
কিন্তু বোন বসে পরে আঁকতে।
ক্লাস নাইনে উঠে মীরা
ঠিক করে পড়বে সায়েন্সে।
রানীর পছন্দ সাহিত্য, ইতিহাস
তাই সে পড়ে় আর্টসে।
স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে মীরা
পড়তে যায় ইন্জিনিয়ারিংয়ে।
রানী শুরু করে তার পছন্দের সাবজেক্ট
ইংরাজীতে অনার্স নিয়ে।
ইন্জিনিয়ারিং শেষ করে
মীরা চাকরি পায় ইসরোতে।
রানী ইংরাজীতে অনার্স শেষ করে
ভর্তি হয় সে আর্ট কলেজে।
দুবছর পরে এখন ইসরো মীরাকে
রকেট লচিং স্টেশনের ইনচার্জ করেছে।
রানী দেশে বিদেশে নিজের ছবির শো করে নিজে
বিখ্যাত আর্টিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সুমনার আজ মনে পরে
রানীর জন্মের সময়ের দিনটি।
মন খারাপ হয়ে গেছিল সেদিন
জেনে কন্যা সন্তান জন্মের খবরটি।
এখন রোজই বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়
ছাপা হয় তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের।
আজ তার দুই মেয়ে দুই রত্ন
শুধু কোলকাতার নয় সারা ভারতের।
-
জন্ম মৃত্যু
Please Visit & Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita
একটি বছর, একটি দিন
একটি সময় ।
কেউ শুরু করে তার জীবন
কারো বা শেষ হয় ।
আজ যেমন মহানায়ক
উত্তমকুমারের মৃত্যুদিন ।
তেমনি এই দিনটি হলো
গায়ক সুবীর সেনের জন্মদিন ।
জন্মে শুরু আর মৃত্যুতে শেষ
এটাই জীবন মানুষের ।
শেষের মানুষ শুরু করে
উৎপত্তি হয় এক নতুন প্রাণের ।
চলছে এই পরিক্রমণ
পৃথিবীর পরিক্রমণের সাথে ।
মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
আর জন্মতে আনন্দে মাতে ।
-
|| ফলের আশা ||
Please Subscribe my Youtube Channel : Keleedas Kobita
Faler Aasha
মহাভারতে অর্জুনকে শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ –
ফলের কোনোও অধিকার তোমার নেই
তোমার অধিকার কর্মে – তুমি সেটি করে যাও।
ফলটি দেবার অধিকার যাঁর, তিনিই দেবেন
তুমি সময় হʼলে ফলটি পাও।
মানুষ সব সময়ই ফলের জন্য ভাবে এবং
মনটা ভারাক্রান্ত করে।
কবে তার কাজের ফলটি পাবে
সেটা ভেবেই সে মাথা খোঁড়ে।
জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহ –
এ সবগুলোই মানুষের হাতের বাইরে।
মানুষ কখনও কখনও ভাবে যে
এগুলো সে কন্ট্রোল করতে পারে।
মানুষ চেষ্টাও করে এ তিনটিকে
তার হাতের মধ্যে আনতে।
কাজ করে সে এটা নিয়ে
ভাবে, এসব আমার সামর্থ্যে।
আমরা দেখি
দৈত্যকুলে প্রহ্লাদ জন্মায়।
আবার কোনও এক গরীব ঘরে
বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের জন্ম হয়।
মহাভারতে ভীষ্মের ইচ্ছামৃত্যু
দেখা যায়।
কিন্তু সাধারণ ভাবে সত্যিই কি কারো
ইচ্ছামৃত্যু হয়?
যদিও কিছু কিছু মণীষির মৃত্যু শোনা যায়
যে তাঁদের ইচ্ছামৃত্যু হয়েছে।
সেসব নিয়ে প্রামাণ্য তেমন কিছু নেই
তাই সেসব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তাই সাধারণ ভাবে ইচ্ছামৃত্যু
সম্ভব নয়।
মানুষের জীবনের দিন শেষ আসলে
তার মৃত্যু হয়।
তেমনই জন্ম মানুষের হাতে
সবটুকু আছে কি?
ছেলে বা মেয়ে কে জন্মাবে
তাও জানা যায় কি?
একই রকম ভাবে বিবাহও
সবটুকু মানুষের হাতে নেই।
অনেক সময়ে অনেকের পছন্দসই বিবাহ
ভেঙ্গে যায় কিছু সময় পরেই।
আবার পাত্র-পাত্রীর প্রথমে অপছন্দ হলেও
পরবর্তীকালে তাদের ভালবাসা গভীর হয়।
আগের জেনারেশনে বিয়ে হতো
বাবা-মা বা গুরুজনদের মতে।
এ জেনারেশনে ছেলেমেয়েদের মনে হয়
তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারে তাদের জীবন সঙ্গীকে।
এটা কতটা ঠিক বা কতটা ভুল
সেটা সময়ই বলবে।
এ নিয়ে অনেক পরিবারে অশান্তি আছে
সেটাও হয়ত চলবে।
শেষে বলি
সেই প্রবাদ বাক্য –
জন্ম মৃত্যু বিয়ে
তিন বিধাতা নিয়ে।








